আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দু’‌ সপ্তাহ মুম্বইয়ের জেলে থাকার পর দ্বিতীয়বার জামিনের আবেদন করলেন রিয়া চক্রবর্তী। তাতে জানালেন, এনসিবি তাঁর বিরুদ্ধে ‘‌ডাইনি–শিকার’‌–এ নেমেছে। তিনটি সরকারি তদন্তকারী সংস্থাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি। তিনি এও অভিযোগ তোলেন, যে সুশান্ত ‘‌নিজের মাদকাসক্তি মেটানোর জন্য নিকটজনকে ব্যবহার করতেন।’‌ 
সুশান্তের বান্ধবী রিয়া এবং শৌভিকের জামিনের আবেদন আজ, বুধবার শোনার কথা ছিল বম্বে হাইকোর্টের। কিন্তু মুম্বইতে প্রবল বৃষ্টির কারণে শুনানি একদিন পিছিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন শুনবে হাইকোর্ট। এর আগে নিম্ন আদালত তাঁদের জামিনের আর্জি খারিজ করেছে। 
৯ সেপ্টেম্বর রিয়াকে গ্রেপ্তার করে এনসিবি। অভিযোগ, সুশান্তকে মাদক জোগাতেন তিনি। তাঁর ভাই শৌভিকের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে। এমনকী সুশান্তের দুই সহকারীকেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
৪৭ পাতার জামিনের পিটিশনে রিয়া জানিয়েছেন, ‘‌সুশান্ত একাই মাদক নিতেন। নিজের সহকারীদের মাদক কিনে আনার নির্দেশ দিতেন। তিনি আজ বেঁচে থাকলে সামান্য মাদক নেওয়ার জন্য জামিনযোগ্য ধারা আনা হত তাঁর বিরুদ্ধে। এই কারণে বড়জোড় তাঁর এক বছর জেল হত।’ রিয়ার যুক্তি, যেখানে সুশান্তের সর্বোচ্চ এক বছর জেল হত, সেখানে মাঝেমধ্যে তাঁর মাদকের দাম দেওয়ার জন্য রিয়ার নিজের কীভাবে ২০ বছরের জেল হতে পারে?‌ বিষয়টা একেবারেই ‘‌অসঙ্গত’‌। 
পিটিশনে রিয়া এও লিখেছেন, সুশান্ত ‘‌তাঁকে, তাঁর ভাইকে, তাঁর সহকারীদের নিজের মাদকাসক্তি মেটানোর জন্য ব্যবহার করতেন। নিজের ক্ষেত্রে একটি প্রমাণও রাখেননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, নেশা করার জন্য সুশান্ত নিজের প্রিয়জনদের ব্যবহার করতেন। এজন্য তাঁদের বিপদেও ফেলেছেন।’‌ সংবাদ মাধ্যম থেকেই তিনি জেনেছেন, সুশান্ত মৃত্যুর তিন দিন আগে নিজের রাঁধুনি নীরজকে ‘‌গাঁজার জয়েন্ট বানিয়ে বেডরুমে রেখে যেতে বলেন’‌। 
নীরজ জেরায় জানিয়েছেন, সুশান্তের মৃত্যুর পর তিনি ঘরে গিয়ে দেখেন বাক্স খালি। তাতে গাঁজা নেই। অর্থাৎ সব গাঁজা সুশান্ত সেবন করে ফেলেছেন। রিয়ার বক্তব্য, এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, যে মাদক সুশান্ত একাই নিতেন। বাকি কেউ নন। তিনি এও লিখেছেন, সুশান্ত নিয়মিত সিগারেটের সঙ্গে গাঁজা সেবন করতেন। তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের আগে থেকেই। ‘‌কেদারনাথ’‌ ছবির শুটিংয়ের সময় থেকে এই অভ্যাস তৈরি হয়েছিল।

জনপ্রিয়

Back To Top