আজকালের প্রতিবেদন‌, দিল্লি: ‌বাবরি মসজিদ মামলায় অষ্টম দিনের শুনানি হল মঙ্গলবার। শুনানিতে রামলালা বিরাজমানের পক্ষে আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া‌র খননের উল্লেখ করে বলেছেন, বিতর্কিত জমিতে মসজিদ তৈরির জন্য মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এএসআই–‌এ‌র খনন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের নীচে বিশাল নির্মাণের সন্ধান পাওয়া গেছে। অতীতে সেখানে মন্দির ছিল। 
এর আগে আলোচনার মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট এক মধ্যস্থতা প্যানেল তৈরি করেছিল। কিন্তু, তা কার্যকর না হওয়ায় আদালতে প্রতিদিন শুনানি শুরু হয়েছে। এ মাসের গোড়ায় প্রথম শুনানিতে নির্মোহী আখড়া বিতর্কিত ২.‌৭৭ একর জমিটিকে নিজেদের বলে দাবি করেছে। তাদের দাবি, ১৯৩৪ থেকে ওই জমি দখল করে মুসলমান সম্প্রদায়। পরদিন আখড়াকে তাদের দাবির সমর্থনে উপযুক্ত নথি পেশ করতে বলে আদালত। জবাবে আখড়া জানিয়েছে, ১৯৮২–‌তে ডাকাতি হয়েছিল। তাতেই সব খোয়া গেছে। তৃতীয় দিনের শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন করে, এক দেবতা তাঁর জন্মস্থল নিয়ে ন্যায় চাইছেন, এটা কী করে সম্ভব?‌ 
চতুর্থ দিন, ৯ আগস্ট শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রামলালা–‌‌র আইনজীবীকে প্রশ্ন করেছিল, ‘‌ভগবান রামের কোনও বংশধর কি অযোধ্যা বা পৃথিবীতে রয়েছেন?‌’‌ এর জবাবে আইনজীবী বলেছিলেন, ‘‌আমার জানা নেই।’‌ এরপর জয়পুর রাজ পরিবারের সদস্যা দিয়াকুমারী নিজেকে রামের বড় ছেলে কুশের বংশধর বলে দাবি করেন। এর পরের শুনানিতে ১৩ আগস্ট আইনজীবী বৈদ্যনাথন বিতর্কিত জমিতে মন্দিরের অস্তিত্বের দাবি করে নথি পেশ করে বলেন, ‘‌এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে বিতর্কিত জমিতে মন্দিরের উল্লেখ করা হয়েছে। ষষ্ঠ দিনের শুনানিতে রামলালার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, হিন্দুরা বিশ্বাস করেন রামের জন্মস্থান অযোধ্যা। তাই এ বিষয়ে আদালতের অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন যুক্তিও তোলা হয় যে, মুঘল সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গিরের আমলে বিদেশি পর্যটক উইলিয়াম ফিঞ্চ ও উইলিয়াম হকিন্স তাঁদের যাত্রা বৃত্তান্তে রাম জন্মভূমি ও অযোধ্যার কথা লিখেছেন।
সোমবার বেঞ্চের বিচারপতি এস এ ববডের অসুস্থতার কারণে শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বেঞ্চে ৬ আগস্ট থেকে এই মামলার শুনানি চলছে। বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি আবদুল নাজির।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top