পিটিআই, দিল্লি: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার আর্জিতে দাখিল করা পিটিশন নিয়ে মঙ্গলবার কোনও নির্দেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা জানিয়েছেন,‘‌আমরা বুঝতে পারছি, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কিন্তু অন্য নাগরিকদের টাকায় আমরা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারি না। সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমরা বিষয়টিকে দেখছি। আরও বৃহত্তর অংশের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তাই বলে আমরা চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে নই।’‌ তাঁরা আরও বলেন, ডাক্তারদের কর্মবিরতি উঠে গেছে। তাই এখন জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন নেই। 
তবে চিকিৎসদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। এজন্য আনা হতে পারে কঠোর আইন। নতুন আইনে ডাক্তারদের ওপর হামলাকে বড় অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। হতে পারে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও। চিকিৎসক নিগ্রহ বন্ধে আইএমএ–র তরফেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে একটি খসড়া আইন জমা পড়েছে৷
এনআরএস হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জি আক্রান্ত হওয়ার জেরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা চেয়ে গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন অলক শ্রীবাস্তব। পিটিশনের সমর্থনে পৃথক আর্জি জানায় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও। ডাক্তারদের নিরাপত্তায় সব রাজ্য সরকারি হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, স্বাস্থ্যমন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিতে আবেদন করা হয় পিটিশনে। সোমবার এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানিতে রাজি হন শীর্ষ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি দীপক গুপ্তা ও সূর্য কান্ত। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সৌজন্যে এ রাজ্যে ডাক্তারদের কর্মবিরতি উঠে যাওয়ায় এদিন বিচারপতি দীপক গুপ্তা ও বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, ‌‘‌পশ্চিমবঙ্গে ও অন্যান্য রাজ্যে চিকিৎসকদের ধর্মঘট চলায় আমরা মামলা শুনতে রাজি হয়েছিলাম। ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই মামলা শোনার এত তাড়াহুড়ো নেই। গ্রীষ্মকালীন অবসরের পর উপযুক্ত বেঞ্চের কাছে এই মামলা নথিভুক্ত করা হোক।’‌ 
সুপ্রিম কোর্টে আইএমএ–র পেশ করা আর্জিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৭৫ শতাংশ চিকিৎসকই কোনও না কোনও ভাবে হিংসার শিকার। অন্তত ৫০ শতাংশ হিংসার ঘটনা ঘটেছে আইসিইউয়ে। এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে হামলায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল রোগীর আত্মীয়রা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন সব রাজ্য সরকারকে কড়া আইন তৈরির কথা বলেছেন। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্রুত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে উঠতে পারে ক্লিনিকাল এস্ট্যাবলিশমেন্ট আইন বদলের প্রসঙ্গও।  

জনপ্রিয়

Back To Top