আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: নির্বাচন কমিশন এবার জেগে উঠেছে। বুধবার এরকমই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। গত কয়েক দিনে ভোট–‌প্রচারে ভীতিপ্রদর্শন, ধর্মীয় বিদ্বেষ, অশালীন আক্রমণ সমানে চলছিল। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চাওয়া হচ্ছিল ভোট। 
এ নিয়ে ভূরি–‌ভূরি অভিযোগ উঠলেও, শুধু সতর্ক করে নোটিস পাঠিয়ে, কখনও–‌বা কেবল জবাব তলব করে কমিশন ছেড়ে দিচ্ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের নেতারা বিধিভঙ্গ করলেও, কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা পালন করছিল। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তাড়নায় শেষমেশ নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার চার নেতাকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার দায়ে তঁাদের ভোট–‌প্রচারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং সপা নেতা আজম খানের শাস্তি তাঁরা ৭২ ঘণ্টা প্রচার করতে পারবেন না। একইভাবে বসপা নেত্রী মায়াবতী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর ওপর ফরমান জারি হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার জন্য তাঁদের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের বিরুদ্ধে মায়াবতীর তরফে বুধবার আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত তা গ্রহণ করেনি। তবে মায়াবতী প্রচার করতে না পারলেও, এদিনই প্রথম ভোট প্রচারে নামেন তাঁর ভাইপো আকাশ আনন্দ।  নাগিনার সভায় আকাশ বলেন, জোট প্রার্থীদের জেতালেই কমিশনকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে আজম খানের বদলে এদিন রামপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন তাঁর ছেলে আবদুল্লা। তাঁর অভিযোগ, মুসলিম বলেই তাঁর বাবাকে শাস্তি পেতে হল। যোগী আদিত্যনাথ শাস্তি পাওয়ায় বিজেপিকে সন্তুষ্ট রাখতেই আজম খানকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আবদুল্লা।  
সম্প্রতি বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, যোগী আদিত্যনাথের ‘‌মোদিজি কি সেনা’‌ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শুধু কমিশন সতর্ক করে দায় সেরেছিল। নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম, জাতপাত ইত্যাদির ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার আর্জি জানিয়ে জনস্বার্থের আবেদনটি করেছিলেন হরপ্রীত মানসুখানি নামে একজন অনাবাসী ভারতীয়। সোমবার এই মামলায় নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে তাদের সীমিত ক্ষমতার কথা বলে অসহায়তা প্রকাশ করে। তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তিরস্কার করে বলেছিলেন, ‘‌কমিশন কি ঘুমোচ্ছে?’‌ এরপর মঙ্গলবারই শীর্ষস্থানীয় চার নেতার বিরুদ্ধে কমিশনের ব্যবস্থা গ্রহণ। আজ প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বেঞ্চ মন্তব্য করে ‘‌মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন এবার জেগে উঠেছে আমাদের নির্দেশে। রাজনীতিকদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে শুরু করেছে। এ থেকে স্পষ্ট, পুনরায় আদালতকে আর এমন নির্দেশ দিতে হবে না।’‌ 
যোগী আদিত্যনাথের ‘‌আলি বনাম বজরংবলী’‌ ও মায়াবতীর মুসলিমদের উদ্দেশে একটি বিশেষ দলকে ভোট না দেওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাল প্রথম তাঁদের প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কমিশন। বিজেপি প্রার্থী জয়া প্রদা সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করার জন্য সপা নেতা আজম খান এবং মুসলিমদের শাসানোর জন্য বিজেপি–‌র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর ওপরও এরপর খাঁড়া নেমে আসে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিহারের কাটিহারে গিয়ে কাল মুসলিমদের একজোট হয়ে মোদির বিরুদ্ধে ভোট দিতে বলেছেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top