সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ২৮ অক্টোবর

বিহারের মুঙ্গেরে বিসর্জন নিয়ে অশান্তির ঘটনায় এবার রিপোর্ট তলব করল ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুঙ্গেরের পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সোমবার রাতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মুঙ্গের। পুলিশকে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। জখম হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনায় মৃত্যু হয় এক বাঙালি তরুণের। গুলিবিদ্ধ হন আরও ৩ জন। ঘটনায় আহত এক নাবালকও।
নীতীশ কুমার সরকারকে তুলোধোনা করছে বিরোধীরা। আরজেডি–র নেতা তেজস্বী যাদব বলেছেন, ‘নীতীশ কুমারকে জেনারেল ডায়ার হতে কে অনুমতি দিয়েছে? টুইট করা ছাড়া উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি কী করেছেন?’ হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তেজস্বী।
কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, ‘নির্দয় কুমারের নেতৃত্বে নির্মম মোদি সরকার চলছে বিহারে।’ প্রসঙ্গত, মুঙ্গেরের দীর্ঘদিনের প্রথা বড় দুর্গা আগে বিসর্জন হবে। কিন্তু পুলিশ সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে ২৫টি প্রতিমা বিসর্জনের জন্য চাপ দিতে থাকে। বহু পুজো কমিটি প্রতিবাদ জানায়। পুলিশের ওপর ইট–পাথর ছুড়তে থাকে উত্তেজিত জনতা। এতে ২০ জন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে সংগ্রামপুর, কোতয়ালি এবং কাসিমবাজারের আইসি–ও ছিলেন।
পুলিশ ভিড়ের মধ্যে দেশি পিস্তল এবং খালি কার্তুজ উদ্ধার করেছে। উত্তেজনা না থামায় পুলিশ নাকি শূন্যে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু সেই পুলিশের গুলিতে স্থানীয় বাসিন্দা অনুরাগ পোদ্দারের মৃত্যু হয়। মুঙ্গেরের পুলিশ সুপার লিপি সিং জানিয়েছেন, ২৬ জন পুলিশকর্মী সঙ্ঘর্ষে জখম হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু দুর্গাপুজোয় প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পুলিশি জুলুম ভাল চোখে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। ভোটের বাজারে রাজনীতির রং–ও লেগে গিয়েছে। লোক জনশক্তি পার্টির চিরাগ পাসোয়ান নীতিশ সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি নির্বাচন কমিশনের কাছে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিহারের এনডিএ সরকার।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top