আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম জঙ্গি হামলা হল জম্মু–কাশ্মীরে। শনিবার কাশ্মীর জোনের পুলিস জানিয়েছে, ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে বন্‌ধ ডেকেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু তাদের হুঁশিয়ারি না শুনে সোপোর জেলার ডাঙ্গেরপোরায় হামিদুল্লা রাঠের নামে ওই ফল ব্যবসায়ী দোকান খুলেছিলেন। সেজন্য শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। গুলিতে জখম হয় হামিদুল্লার পরিবারের চারজন। জখমদের মধ্যে রয়েছে উসমা জান নামে দুবছরের এক শিশুকন্যা, মহম্মদ আশরফ দার, মহম্মদ রমজান দার এবং আরশিদ হুসেন। বাকিরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
তবে ৩০ মাসের উসমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে দিল্লি পাঠানো হয়েছে বলে টুইটারে জানিয়ে শ্রীনগরের জেলাশাসক শাহিদ চৌধুরি লিখেছেন, ‘‌ওর এটা প্রাপ্য ছিল না।’‌ উসমাকে দিল্লি এইমস্‌–এ ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ‌তাদের বারণ না শোনায় শিশুর উপর এভাবে হামলাকে ‘‌অক্ষমণীয় নাশকতা’‌ বলে টুইট পোস্টে মন্তব্য করেছে জম্মু–কাশ্মীর পুলিস।

ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, এভাবে সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালিয়ে উপত্যকায় ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। তবে ভারত তা হতে দেবে না বলে আশ্বস্ত করেছে সেনা।
কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্পর্কে শনিবার কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘‌জম্মু–কাশ্মীরের ৯২.‌৫ শতাংশ অঞ্চলেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। আমরা চাইব সব নিষেধাজ্ঞাই উঠে যাক। কিন্তু সেটা নির্ভর করছে পাকিস্তানের ব্যবহারের উপর। যদি পাকিস্তান ভালো ব্যবহার করে, জঙ্গিরা অনুপ্রবেশ না করে, পাকিস্তান তাদের টাওয়ার থেকে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সংকতে না পাঠায় তাহলে আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব।’‌ তিনি আরও বলেন, উপত্যকার কোনও নেতাদের বিরুদ্ধেই অপরাধমূলক চার্জ গঠন করা হয়নি। তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তবে তাঁদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করা হয়েছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না কাশ্মীরে গণতন্ত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয় এরকই থাকবে বলে জানিয়েছেন ডোভাল।            
ছবি:‌ এএনআই  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top