রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল মজবুত করতে ব্যয়সঙ্কোচের ৫টি পরামর্শ দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ, নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ ও সৌন্দর্যায়ন ‌বন্ধ রাখা–সহ ৫টি পরামর্শ দিয়ে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দু’‌পাতার চিঠি লিখেছেন তিনি। 
দু’‌দিন আগেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কী কী করণীয়, বিরোধী দলের নেতা‌–নেত্রীদের কাছে সে ব্যাপারে পরামর্শ চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও প্রতিভা পাটিল–সহ মনমোহন সিং, মমতা ব্যানার্জি, নবীন পট্টনায়কদের ফোন করেছিলেন সোনিয়া। এদিন চিঠিতে সোনিয়া তার উল্লেখ করে লিখেছেন, সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং আমলাদের সমস্ত বিদেশ সফর স্থগিত করা হোক। নিয়ম হোক, আগামী দু’বছর জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউই বিদেশ সফরে যাবেন না।
সোনিয়া বলেছেন, আগে থেকেই ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল’ থাকা সত্ত্বেও করোনা মোকাবিলায় ‘পিএম কেয়ারস’ তহবিল গড়া হয়েছে। সোনিয়া দাবি করেছেন, এই তহবিলে যে টাকা জমা পড়বে, তা প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে রাখা হোক। এর ফলে কোথায় কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার স্পষ্ট হিসেব থাকবে। প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। এই প্রসঙ্গে আরও লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিলে অব্যবহৃত ৩,৮০০ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। এর সঙ্গে ‘পিএম কেয়ারস’ তহবিল যুক্ত হলে গরিব মানুষের খাদ্যসঙ্কট মিটবে।
মোদিকে লেখা চিঠিতে সাংসদদের বেতন ৩০ শতাংশ ছাঁটার ব্যাপারে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সোনিয়া। সেই সঙ্গেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের খরচের ৩০ শতাংশ ছাঁটাই করে সেই টাকা পরিযায়ী শ্রমিক, সাধারণ শ্রমিক, কৃষক এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে খরচ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এতে বছরে সরকারের হাতে অতিরিক্ত আড়াই লক্ষ কোটি টাকা থাকবে।   
সেই সঙ্গে মোদিকে তাঁর পরামর্শ, নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ এবং সৌন্দর্যায়নের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা আপাতত খরচ করবেন না। ওই টাকা ব্যয় হোক করোনা মোকাবিলা খাতে। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সভানেত্রী লিখেছেন, ‘বর্তমানের ঐতিহাসিক ভবনগুলিতেই সংসদের কাজ চলতে পারে। ভবন তৈরির কোনও তাড়া নেই। সঙ্কটজনক পরিস্থিতি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। ওই টাকায় বরং নতুন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার তৈরি হতে পারে। যাঁরা সামনের সারিতে এসে করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন, তাঁদের সুরক্ষা সরঞ্জামের বন্দোবস্ত করা যেতে পারে।’
পাশাপাশি মোদিকে সোনিয়ার আরও পরামর্শ, কয়েক মাস সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন বন্ধ দেওয়া রাখুক কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ফি–বছর গড়ে বিজ্ঞাপন বাবদ ১,২৫০ কোটি টাকা খরচ করে। সেই টাকা সঞ্চয় করে করোনা খাতে ব্যয় করা হোক।‌ সব মিলিয়ে পরামর্শের আড়ালে সরকারকে খোঁচা দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি সোনিয়া। বিজ্ঞাপন, মন্ত্রীদের বিদেশ সফর এবং স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সূক্ষ্ম রাজনীতিও করেছেন তিনি।

জনপ্রিয়

Back To Top