রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ১৩ আগস্ট- দায়িত্ব নিয়েই বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সোনিয়া গান্ধী। দলে ‘‌এক ব্যক্তি এক পদ’‌ নীতি চালু করতে চলেছেন তিনি। দল সত্যি সত্যি এই নীতি মেনে চললে ভবিষ্যতে দল কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলেও কংগ্রেস সভাপতি সেই সরকারের শরিক হতে পারবেন না। অতীতে কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও নরসিংহ রাও দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি দুটি পদেই থেকেছেন। পাশাপাশি সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশ, এবার থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে দলের বৈঠকে আসতে পারবেন না নেতারা।
মাত্র ৩ দিন আগে সোনিয়াকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী করেছে কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর দায়ভার কাঁধে নিয়ে সভাপতির পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন রাহুল। তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে জলঘোলা হয়েছে। নানা বিষয়ে মতানৈক্য ফুটে উঠেছে দলের অন্দরে। এরপর শেষমেশ শনিবার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে দল। অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সোনিয়া। এখন তিনি চাইছেন, দলে ‘‌এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি চালু করতে। অর্থাৎ একই নেতা একাধিক পদে আর থাকতে পারবেন না। ফলে দলে অন্য পরিশ্রমী নেতারা সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সোনিয়া। 
কংগ্রেসে বহু নেতা এখনই একাধিক পদে রয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ, কিসান কংগ্রেস সভাপতি নানা পাটোলে, তফসিলি জাতি ও উপজাতি বিভাগের চেয়ারম্যান নীতিন রাউত, রাজস্থানের উপ-‌মুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট। গুলাম নবি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং হরিয়ানার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। শচীন পাইলট উপ-‌মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। কমলনাথ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদে রয়েছেন। রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী উমা সিঙ্গার প্রদেশ কংগ্রেসের ডেপুটি ইনচার্জ। নানা পাটোলে কিসান কংগ্রেস সভাপতির পাশাপাশি মহারাষ্ট্র প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান। নীতিন রাউত তফসিলি জাতি ও উপজাতি বিভাগের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের দায়িত্বে রয়েছেন। এবার যে কোনও একটি রেখে বাকিগুলি ছেড়ে দিতে হবে তাঁদের। 
কেন এই নিয়মের কথা ভাবছেন সোনিয়া?‌ দলের নেতারা বলছেন, তরুণ নেতাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোনিয়া। খুব শীঘ্রই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনবে দল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সভানেত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার প্রায় ১৯ মাস পর অন্তর্বর্তী সভানেত্রী হিসেবে ফিরেছেন সোনিয়া। তার আগে টানা ১৯ বছর সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন সোনিয়া।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top