রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: লক্ষ্য ২০১৯। নিজস্ব তাগিদ থেকেই আবার শক্তপোক্ত ইউপিএ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন সোনিয়া গান্ধী। একদিকে যখন ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিচ্ছে সম্ভাব্য তৃতীয় ফ্রন্টের কথা, তখন মঙ্গলবার রাতে দিল্লির ১০ জনপথে আবারও বিরোধী দলগুলির নেতা–‌নেত্রীদের একসঙ্গে আনলেন তিনি। যে ১৭টি দল আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি–কে উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তাদের শীর্ষনেতৃত্বকে ভোটের কৌশল নিয়ে ‌আলোচনা‌ এখন থেকেই শুরু করার কথাও বললেন। বলা যায়, ইউপিএ ‌৩–র ভিত গড়তে প্রথম ইটটা গেঁথেই ফেললেন সোনিয়া গান্ধী। এরপর এই মাসের শেষে এই চেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এমনই এক নৈশভোজ ডাকার কথা এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের। সেখানে কংগ্রেসও আমন্ত্রিত হবে।
আজকের নৈশভোজে প্রধান পদটি ছিল অবশ্যই মোদি সরকার। ডিনার থেকে বেরিয়ে একাধিক নেতা জানালেন, ‘শেষ পাতে চাটনির মতো আলোচ্য বিষয় ছিল সপা মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চন সম্পর্কে সদ্য বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়া নরেশ আগরওয়ালের কুরুচিকর মন্তব্যটি।’‌ 
সোনিয়ার আন্তরিক আমন্ত্রণ সত্ত্বেও পাহাড়ে শিল্প সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় নৈশভোজে উপস্থিত থাকতে পারেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সোনিয়ার বাড়িতে এসেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি। ছিলেন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, লালুপ্রসাদের ছেলে তেজস্বী যাদব, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা নেতা বাবুলাল মারান্ডি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হেমন্ত সোরেন, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতনরাম মাজি, ডিএমকে–র কানিমোঝি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, বসপা–র সতীশ মিশ্রা।। এছাড়াও এনসিপি, জেডি (‌এস)‌, কেরল কংগ্রেস, ইন্ডিয়ান মুসলিম লিগ, আরএসপি, আরএলডি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
কংগ্রেস সূ্ত্র জানাচ্ছে, নৈশভোজে ডাক পায়নি অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষমতাসীন দল টিডিপি, ওডিশার বিজেডি এবং টিআরএস। কারণ, টিডিপি–‌র দুই মন্ত্রী সদ্য মোদি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেও চন্দ্রবাবু নাইডু এখনও এনডিএ–র শরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, ওডিশায় ক্ষমতাসীন বিজেডি ও তেলেঙ্গানায় ক্ষমতাসীন টিআরএস মোদি সরকারের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখছে। তার ওপর টিআরএস নেতা তথা তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও সম্প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেস উভয়ের বাইরে তৃতীয় মোর্চা গঠনের কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগেও দেশের বিভিন্ন বিরোধী দলগুলিকে ছোটখাটো বিবাদ ভুলে বিজেপি–‌কে ঠেকাতে এককাট্টা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনিয়া। গতবছর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক আগে বিরোধী শিবিরের প্রার্থী গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর সমর্থনে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐক্যমত গড়ে তুলতে এমনই এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন তিনি। দু’‌দিন আগেই একটি সংবাদমাধ্যমের আলোচনাসভায় সোনিয়া বলেছেন, ‘‌২০১৯–‌এ কিছুতেই বিজেপি–কে সরকার গড়তে দেব না।’‌ সংসদের অন্দরে ও বাইরে ১২,৫০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, নোট বাতিল, জিএসটি, হিন্দুত্ব, গো‌রক্ষা–সহ অন্যান্য ইস্যুতে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে কোমর বেঁধে নামার পক্ষেই সওয়াল করছেন সোনিয়া। শেষ পর্যন্ত সোনিয়ার এই প্রচেষ্টা কতটা সাফল্য পাবে, তার জবাব পেতে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় নেই।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top