আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি, ২৮ মে - পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে ফের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিঁধলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়ার অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখ, যন্ত্রণা, কান্না গোটা দেশ দেখতে পেলেও তা চোখে পড়ছে না বিজেপি–‌র। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘‌স্পিক আপ ইন্ডিয়া’‌ নামে প্রচার অভিযান শুরু করেছে কংগ্রেস। সেই অভিযানের শুরুতেই কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, গত দু মাসে করোনা পরিস্থিতির জেরে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ।  লকডাউন চলার ফলে রুটি–‌‌রুজির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর সাধারণ মানুষকে এত কষ্ট কখনও পেতে হয়নি। লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে এভাবে মাইলের পর মাইল খালি পায়ে হাঁটতে হয়নি। ভিডিও বার্তায় সোনিয়া বলেছেন, প্রত্যেকে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের যন্ত্রণা দেখছেন, কান্না শুনছেন, কিন্তু বিজেপি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয় না!‌
এদিন কেন্দ্রের কাছে দেশের গরিব মানুষদের জন্য একাধিক দাবি পেশ করেন কংগ্রেস সভানেত্রী। দেশের গরিব পরিবারগুলিকে এককালীন অর্থ সাহায্যেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেস দাবি করছে, গরিব পরিবারগুলিকে এখনই এককালীন ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য করতে হবে কেন্দ্রকে। এছাড়াও দেশের প্রত্যেক গরিব পরিবারকে আগামী ৬ মাস প্রত্যেক মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করার দাবি জানিয়েছেন সোনিয়া। সরাসরি অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের অধীনে ১০০ দিনের পরিবর্তে ২০০ দিন কাজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া শ্রমিকদের নিখরচায় বাড়ি ফেরানোর দাবিও করেছে কংগ্রেস। একই দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী থেকে দলের নবীন–‌‌প্রবীণ নেতারা। 
এদিনই রাহুল গান্ধী বলেছেন, করোনার জেরে দেশে ঝড় বয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ গরিব মানুষ‌, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ। এই মুহূর্তে তাদের নগদ অর্থের প্রয়োজন। এছাড়াও দেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য দ্রুত প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্ষপূর্তির দু’‌দিন আগে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আওয়াজ তুলতে চাইছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সূত্রের খবর, স্পিক আপ ইন্ডিয়া অভিযানের প্রথম দিনেই ব্যাপক সাফল্যও মিলেছে। বিশ্বজুড়ে হ্যাশট্যাগ স্পিক আপ ইন্ডিয়া টুইটার ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল সাইটে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে দাবি করছে কংগ্রেস।  
এদিকে, ৩০ মে দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্ষপূর্তিতে ৭৫০টি ভার্চুয়াল সভা করবে বিজেপি। লকডাউনের জন্য মাঠে নেমে ঢাকঢোল পেটানো সম্ভব নয়। তাই যত বেশি সম্ভব নেট–‌দুনিয়াতেই প্রচারের পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। গত এক বছরে মোদি সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরবে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, গত এক বছরের সরকারের কাজকর্মের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সাফল্য, ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণার মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top