আজকালের প্রতিবেদন: উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার করে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে সমস্যায় ফেলতে চেষ্টা চালাচ্ছে কিছু সোশ্যাল নেটওয়ার্ক চ্যানেল। করোনা সংক্রমণের কারণে ক্ষুদ্রঋণ মকুবের কোনও সিদ্ধান্তই সরকার, ব্যাঙ্ক বা কর্তৃপক্ষ কেউই এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করেনি। অথচ প্রচার চালানো হচ্ছে, ঋণ মকুব করা হয়েছে। এই ধরনের খবরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন গ্রাহকরাও। বন্ধন ব্যাঙ্ক, আশা, আরোহণ–সহ আরও বেশ কিছু সংস্থাকে নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার চলছে। এর মধ্যে বন্ধন ব্যাঙ্কের ব্যাপ্তি এবং গ্রাহকসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ফলে তাদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা। ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, তার কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সংস্পর্শের সম্ভাবনা বেশি। স্বাভাবিকভাবেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তাদের ঋণের কিস্তি আদায়ের কাজ প্রায় থেমে গেছে। তারই মধ্যে যে সব গ্রামীণ ব্যবসায়ী জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত কাজকর্মে জড়িত এবং স্থানীয় সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তারা নতুন করে ঋণ নিয়ে ব্যবসার কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। শহরের ব্যবসায়ীরা তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
সাধারণের সমস্যার কথা ভেবে, সরকারি নির্দেশে ঋণের কিস্তি কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অসাধু কিছু চক্র ইউটিউব, ফেসবুক চ্যানেলগুলিতে প্রচার চালিয়ে বলে চলেছে, ‘‌সরকার থেকে জানানো হয়েছে ঋণগ্রহীতাদের আর কিস্তির টাকা ফেরত দিতে হবে না। ব্যাঙ্ক ও ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলি সমস্ত ঋণ মকুব করে দিয়েছে।’‌
সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, ঋণের কিস্তি আদায় পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে সেটা সংস্থা ও গ্রহীতার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। কিস্তি আদায় পিছিয়ে গেলেও ঋণের ওপর সুদের হার বহাল থাকবে। কিস্তি বন্ধ থাকাকালীন মোট ঋণের ওপর সুদ জমা হতে থাকবে। ফলে ঋণগ্রহীতার ওপর পরবর্তীকালে অতিরিক্ত কিস্তির বোঝা চাপতে পারে। আরও বেশি দিন ধরে ঋণ পরিশোধ করতে হতে পারে। পুরনো ঋণ শোধ না করলে কেউ নতুন ঋণ নিতে পারবেন না। বিভ্রান্তিমূলক প্রচার সত্যি মনে করে গ্রাহকরা কিস্তি দেওয়া বন্ধ করলে তাঁদের ব্যবসার উন্নতি, পরিকল্পনা দীর্ঘায়িত হতে থাকবে। গ্রাহকরা ‘‌মোরাটোরিয়াম’‌–এর মেয়াদের পরেও যদি কিস্তি চোকানো শুরু না করেন, সরাসরি তাঁদের ক্রেডিট স্কোরে প্রভাব পড়বে। পরবর্তীকালে কোনও সংস্থা থেকে ঋণ পেতে অসুবিধেয় পড়বেন। এ ধরনের ভুল ধারণায় রাজ্যের অর্থনীতিতেও সাঙ্ঘাতিক প্রভাব পড়বে, ব্যবসা–বাণিজ্য আরও রুগ্‌ণ হয়ে পড়বে। ঋণ মকুবের অধিকার শুধুই সরকার বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আছে। ব্যাঙ্ক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলি ইচ্ছেমতো গ্রাহকদের ঋণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top