আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: শবরীমালা মন্দির মামলা শেষ হল না। মন্দিরে সব বয়সি মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলা যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে। তবে আপাতত মহিলাদের প্রবেশাধিকারে কোনও আইনি বাধা থা‌কছে না। কারণ আদালত আগের রায়ের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। এরপর বৃহত্তর বেঞ্চ অবশ্য শুধুই শবরীমালার বিষয়টি দেখবে না, মসজিদে মহিলাদের ঢুকতে না–দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাসজনিত লিঙ্গবৈষম্যের সমস্ত বিষয় সামগ্রিকভাবে খতিয়ে দেখবে ওই বেঞ্চ। আদালত তাদের নির্দেশে এ কথাও বলেছে যে, ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় আদালতের এক্তিয়ারে আসে কিনা তাও দেখার প্রয়োজন আছে। 
আজকের এই রায় অবশ্য সহমতের ভিত্তিতে হয়নি। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এ এম খানউইলকর এবং বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা শবরীমালা ইস্যু বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর পক্ষে রায় দেন। অন্যদিকে বিচারপতি আর এফ নরিম্যান এবং বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় শীর্ষ আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার পক্ষে ছিলেন। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত হয়েছে ৩–২ গরিষ্ঠতায়। এর আগে গত বছর এই একই বেঞ্চ তাদের রায়ে বলেছিল, শবরীমালায় সব মহিলাকে না–ঢুকতে দেওয়া ‘‌অসাংবিধানিক’‌। কিন্তু তখনও সিদ্ধান্ত হয়েছিল ৪–১ গরিষ্ঠতায়। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এই রায়ের সঙ্গে একমত ছিলেন না। তখনও তাঁর বক্তব্য ছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আদালতের না–ঢোকাই ভাল। এরপর ত্রিবাঙ্কুর দেবস্থানম বোর্ড–সহ নানা সংগঠন ও ব্যক্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বলেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আদালত বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে না। 
পুনর্বিবেচনা মামলায় শীর্ষ আদালত বলেছে, এই মামলার রায় শুধু শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের ব্যাপারটিকে প্রভাবিত করবে না, বরং দেশের সব মন্দির, মসজিদ এবং পার্সি উপাসনালয়ে মহিলাদের প্রবেশাধিকারের ওপরেও তা প্রভাব ফেলবে। আদালতের বক্তব্য, শবরীমালা মামলার রায় নিয়ে যারা পুনর্বিবেচনার মামলা করেছেন, তারা দীর্ঘদিনের চলে আসা পরম্পরাকে বৈধতা দেওয়ার কথা বলেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বিষয়টিকে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর কথা বলেছেন। 
বিজেপি এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলি সুপ্রিম কোর্টের গত বছরের রায়ের পরেও যুবতী মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেয়। এদিন বিজেপি সাধারণ সম্পাদক (‌‌সংগঠন‌)‌‌ বি এল সন্তোষ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘‌ভক্তদের বিশ্বাস ও প্রথা রক্ষা, এটা মোটেই মৌলিক অধিকারের বিষয় নয়।’‌ কংগ্রেস নেতা উমেন চন্ডি ও শশী থারুরও শীর্ষ আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে, ১৬ নভেম্বর থেকে  শুরু হবে আয়াপ্পা দর্শন। ২ মাসের জন্য খোলা থাকবে মন্দির। এমন সময়ে আদালতের রায়ে ভক্তদের আয়াপ্পা দর্শন আরও মসৃণ হবে বলে দাবি করেছেন ত্রিবাঙ্কুর দেবস্থানম বোর্ডের (‌‌টিডিবি‌)‌‌ চেয়ারম্যান এ পদ্মকুমার। অন্যদিকে কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা বলেছেন, ‘‌১৬ নভেম্বর মন্দির খুলবে। সেক্ষেত্রে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আদালতের রায় নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করা হবে। তারপরেই রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শবরীমালা আয়াপ্পা মন্দির। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top