আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গুজরাটের আনন্দ জেলার সোজিত্রা তালুকের রুন গ্রাম। সেখান থেকে ২৪ জনের একটি দল করসেবক হয়ে গেছিলেন অযোধ্যায়। ২০০২ সালে। দলে ১৮ জনই ছিলেন মহিলা। ছ’‌জন মহিলা আর কখনও ঘরে ফেরেননি। গোধরা স্টেশনে সাবরমতী এক্সপ্রেসের এস–৬ কামরার আগুনে প্রাণ দিয়েছিলেন। দিনটা ছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি।  
মৃতদের মধ্যে ছিলেন জয়ন্তীভাই প্যাটেলের ৫৬ বছরের মা চম্পাবেন। জয়ন্তীভাইয়ের এক কাকিমার সঙ্গে অযোধ্যা গেছিলেন চম্পাবেন। আগুন লাগলে কোনওমতে ট্রেনের জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেন সেই আত্মীয়া। চম্পাবেন পারেননি। এখনও দিনটা মনে পড়ে জয়ন্তীভাইয়ের কাকিমার। নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। বললেন, ‘‌আগুন গ্রাস করেছিল গোটা কামরা। আমার হাত শক্ত করে ধরেছিলেন বৌদি। হঠাৎ আলগা হয়ে যায়। আমি কোনওমতে জানলা দিয়ে লাফ দিই।’‌ 
২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫৬ জন করসেবক মারা যান। তার জেরেই আগুন জ্বলে ওঠে গুজরাটে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে মারা যান প্রায় ১,২০০ জন। বেশিরভাগই মুসলিম।
জয়ন্তীভাইয়ের কাকিমা অবশ্য সেই গোধরা অগ্নিকাণ্ডের জন্য মনে কোনও হিংসা পুষে রাখেননি। তাঁর কথায়, ‘‌আমরা বিশ্বাস করি, এটা রামের জন্য বলিদান ছিল। মন্দির নির্মাণ হচ্ছে বলে আমি দারুণ খুশি। এই করোনা না থাকলে আরও খুশি হতাম।’‌ সেদিনের এই করসেবক জানালেন, বুধবার অবশ্যই ঘরে প্রদীপ জ্বালাবেন। ৫৮ বছরের জয়ন্তীভাই পেশায় কৃষক। বুধবার অযোধ্যায় থাকতে না পেরে কোনও আফসোস নেই তাঁর। 
এই করোনার বাড়াবাড়ি শেষ হলে অবশ্যই দুই ছেলেকে নিয়ে অযোধ্যায় যাবেন। জানিয়ে দিলেন ৬৫ বছরের নবীনচন্দ্র ব্রহ্মভাট। সেদিন গোধরা কাণ্ডে মারা গেছিলেন নবীনচন্দ্রের স্ত্রী নীরুবেন। ভাদনগরের বাসিন্দা তাঁরা।
গোধরা পরবর্তী কাণ্ডের জন্য আঙুল ওঠে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দিকে। সেই ভিএইচপি–ও আজ ভেঙে গেছে। বজরং দলের প্রাক্তন কর্মী মহেশ শাহ। আমেদাবাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৮০ জনকে নিয়ে অযোধ্যায় গেছিলেন তিনি। ফেরার সময় এস–৯ কামরার আগুনে ১৯ জন প্রাণ হারান। শাহর একটাই আক্ষেপ, ভূমিপুজোয় ভিএইচপি–র প্রাক্তন প্রধান প্রবীণ তোগাড়িয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ভিএইচপি ছেড়ে অন্তররাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ তৈরি করেছেন তোগাড়িয়া। 
৫৭ বছরের মহেশ শাহ বললেন, ‘‌বাবরি মসজিদের সঙ্গে জুড়ে থাকা ইকবাল আনসারিকে আমন্ত্রণ জানানো হল। তোগাড়িয়াকে করা হল না। এই দিনটা দেখার জন্যই ২৭ ফেব্রুয়ারির গোধরা কাণ্ড থেকে বেঁচে ফিরেছি।’‌ 
ভিএইচপি–র প্রাক্তন নেতা নীরজ জৈনি। ২০০২ দাঙ্গায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা রয়েছে। নিজেই স্বীকার করলেন, ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় গিয়ে বাবরি মসজিদ ভাঙার জন্য পাথর তুলে নিয়েছিলেন হাতে। রাম মন্দির তৈরি হলে অবশ্যই আর একবার যাবেন অযোধ্যায়। রামকে আইসক্রীম আর গুলাবজামুন দিয়ে আসবেন। কারণ রাম মন্দিরের জন্য ওই দু’‌টো ত্যাগ করেছিলেন তিনি। 

জনপ্রিয়

Back To Top