আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পায়েল ঘোষের পাশ দাঁড়াতে গিয়ে গোলমাল করে ফেললেন বাঙালি অভিনেতা ও করণি সেনার রাজ্য সভাপতি রূপা দত্ত। অনুরাগের নামে অশ্লীল মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ আনলেন। কিন্তু দেখা গেল, তিনি অন্য একজনের প্রোফাইলের সঙ্গে কাশ্যপের প্রোফাইল গুলিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু এই প্রোফাইলটি মালিক এর আগে দু’‌বার দু’‌টি ইস্যুতে নিজের পরিচয় জানিয়েছিলেন। এবং স্পষ্ট বলেছিলেন যে তিনি পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ নন। 
শনিবার পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ‘‌মি টু’ অভিযোগ তুললেন অভিনেতা পায়েল ঘোষ। টুইট করে সেকথা জানিয়ে মোদিকে ট্যাগ করে পদক্ষেপ নিতেও জানালেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে কঙ্গনা হ্যাশট্যাগও শুরু করলেন ‘‌অনুরাগ কাশ্যপকে গ্রেপ্তার করা হোক।’
পায়েল টুইট করে জানান, ‘‌অনুরাগ কাশ্যপ আমার সঙ্গে জোরজবরদস্তি করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজী, দয়া করে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন। এবং এই প্রতিভাধর মানুষটির মুখোশের আড়ালে যে শয়তান লুকিয়ে রয়েছে তাকে চিনুক দেশ। আমার মনে হচ্ছে, আমার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ। আমাকে সাহায্য করুন।’‌‌ তারপরই দু’‌ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় দেশ। এসমস্ত ঘটনা তখনই ঘটল যখন বিজেপি সমর্থক কঙ্গনা ও বিজেপি বিরোধী অনুরাগের মধ্যে বাকযুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এছাড়া ২০১৮ সালে যখন বলিউডে মিটু আন্দোলন শুরু হয়, পায়েল ঘোষের একটি নারীবিদ্বেষী টুইট সামনে আসার পরে মানুষের মনে বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হচ্ছে যে এই অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক চাল রয়েছে। সেই টুইটে তিনি লিখেছিলেন, ‘‌কেউ ধর্ষণ করেনা। তারা (‌পুরুষেরা) কেবল সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তোমার না পোষালে তুমি বেরিয়ে যাও সেখান থেকে। সেটা নিয়ে বিরাট নাটক করার কোনও দরকার নেই তারপরে।’‌ মি টু অভিযোগ পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনুরাগ বেশ কয়েকটি টুইট করে জানান যে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘‌ভিত্তিহীন’।‌ ‌   
পায়েল ঘোষের অভিযোগের একদিনের মধ্যেই সেরকমই আরেকটটি টুইট পড়াতে মাথায় হাত অনুরাগ অনুগামীদের। যাঁরা পায়েল ঘোষের অভিযোগ বিশ্বাস করতে গিয়ে দোনামোনা করছিলেন তাঁরাও রূপা দত্তের পোস্ট করা স্ক্রিনশট দেখে আঁতকে উঠেছিলেন। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, ‘অনুরাগ কাশ্যপের নজরে কোনও মহিলার কোনও সম্মান নেই। যা আমি ওনাকে জানার পরেই বুঝতে পেরেছি‌ এই জন্যই পায়েল ঘোষের অভিযোগ একদম সঠিক। অনুরাগ কাশ্যপকে কঠোরতম সাজা দেওয়া উচিত। আর ইনি ড্রাগও নেন। নিজের অভিনেতাদেরও সাপ্লাই করে। এনসিবি, দয়া করে এই বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’‌ নীচে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা ‘‌অনুরাগ কাশ্যপকে গ্রেপ্তার করা হোক।’‌ স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ‘‌অনুরাগ সফর’ বলে একজনের প্রোফাইল থেকে মেসেজগুলি এসেছে। ব্যক্তিটি মহিলাদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলছেন। তারপরেই ফ্যাক্ট চেকিং করার পর অল্ট নিউজ সংবাদসংস্থা জানায় যে এই প্রোফাইলটি পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নয়। কিন্তু অনুরাগ কাশ্যপের ছবির প্রচারের সময়ে বহুবার কিছু সংবাদসংস্থা এই প্রোফাইলটিকে ট্যাগ করেছে। কারণ কিছু বছর আগে প্রোফাইলের নাম ছিল ‘‌অনুরাগ কাশ্যপ’। এসবের কারণেই প্রোফাইলের মালিক ২০০৯ সালে নামটি বদলে ‘‌অনুরাগ সফর’ রাখেন। এবং ২০১০ সালে একটি পোস্টে তিনি জানান যে, ‘‌আমি কি একবারও বলেছি যে আমি পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ?‌ কেন আমাকে এসবের মধ্যে টানছেন। আমি অন্য এক অনুরাগ।’ ফের ২০১৬ সালে তিনি একই কথা বলে পোস্ট করেন। ‌ ‌


এই অভিযোগটি মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ার পরে স্বরা ভাস্কর একটি টুইট করে লেখেন যে, এসমস্ত ভুয়ো অভিযোগের জন্যেই ‘‌মি টু’ আন্দোলনের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। সেই পোস্টের জবাবে রূপা দত্ত সরাসরি হুমকি দিয়ে বসলেন স্বরাকে। বললেন, ‘‌মিস জেএনইউ ও টুকরে টুকরে গ্যাং, আপনিন করণি সেনার সভাপতির সঙ্গে কথা বলছেন। আমি আপনার মতো দেশদ্রোহীর জন্য আর একটাও টুইট করতে চাই না।’‌‌   ‌     

জনপ্রিয়

Back To Top