সোনু সুদ

রিল লাইফের ভিলেন, রিয়েল লাইফের সুপার হিরো। গরিবের রবিনহুড সোনু সুদ।

পরিযায়ীদের পাশে 
লকডাউনে শ্রমজীবী মানুষের আশা–ভরসার প্রতীক সোনু সুদ। লকডাউনে আটকে পড়া হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে ঘরে ফিরিয়েছেন। কখনও ট্রেন–বাস তো কখনও আবার প্লেন ভাড়া করে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর বন্দোবস্ত করেছেন। শুধু ঘরে ফেরানোই নয়, অসহায় মানুষদের মুখে খাবারও তুলে দিয়েছেন৷ অনেক জায়গায় সব ব্যবস্থার তদারকি করেছেন স্বয়ং সোনু। সমস্যায় পড়া মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছতে ব্যবস্থা করেন টোল ফ্রি নম্বরের। সেই নম্বর এবং ই–মেলে আসা মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি পৌঁছেছে অভিনেতার কাছে। তিনি লেখেন, ‘‌আপনাদের মেসেজ আমার কাছে দ্রুত ঢুকছে। আমি এবং আমার টিমের সদস্যরা চেষ্টা করছি যাতে আপনাদের প্রত্যেককে সাহায্য করতে পারি। যদি এই পরিস্থিতিতে কোনও মেসেজ না দেখে উঠতে পারি, তাহলে আমায় ক্ষমা করবেন।’‌

পড়ুয়াদের স্মার্টফোন
একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, হিমাচলপ্রদেশের সীমানা ঘেঁষা হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম মোরনির বেশ কিছু পড়ুয়ার কাছে নেই স্মার্টফোন। ফলে অনলাইনে পড়াশোনার জন্য প্রতিদিন তাদের ছুটতে হয় কয়েক মাইল দূরে কোনও বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে। স্মার্টফোন কেনার আর্থিক সামর্থ ছিল না পরিবারের। সংবাদটি টুইট করে সোনু সুদ ও হরিয়ানা প্রশাসনের সাহায্য চান ওই সাংবাদিক। সঙ্গে সঙ্গে টুইটারে সোনু সুদের উত্তর, ‘বাচ্চাদের আর দৌড়তে হবে না। ওরা কালকের মধ্যেই স্মার্টফোন হাতে পেয়ে যাবে।’ প্রতিশ্রুতি মতো স্মার্টফোন পৌঁছে যায় পড়ুয়াদের কাছে। শুধু স্মার্টফোনই নয়, ভাল নেটওয়ার্কের জন্য গ্রামে মোবাইল টাওয়ার বসানোর উদ্যোগও নেন তিনি।

দিলেন চাকরি
লকডাউনে চাকরি হারানো হায়দরাবাদের বাসিন্দা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী উনদাদি সারদা। সবজি বিক্রি শুরু করেন তিনি। কাজ হারানো তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর চাকরির ব্যবস্থা করেন অভিনেতা। রিচি শেলসন নামে এক ব্যক্তি সারদার কথা টুইটারে লিখলে সোনুর টুইট, ‘আমার অফিসিয়ালরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। চাকরির চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছেন। জয় হিন্দ।’ শুধু সারদা নন, লকডাউনে কাজ হারানো অনেক মানুষেরই চাকরির বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। সোনামুনি নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারের টুইট, ‘‌আমি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার বাসিন্দা৷ লকডাউনে গ্রামের প্রায় ৫০ জন মহিলা চাকরি হারিয়েছেন৷ আমাদের সবার চাকরি খুব দরকার৷ সাহায্য করুন৷ আপনিই আমাদের কাছে শেষ ভরসা৷’‌ সোনুর টুইট, ‘‌আমার এই ৫০ জন বোন, যাঁদের চাকরি চলে গেছে, কথা দিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের জন্য ভাল কোনও চাকরির ব্যবস্থা করব৷’‌

স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য
করোনাযুদ্ধে জরুরি পরিষেবায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিজের হোটেলের দরজা খুলে দিয়েছিলেন সোনু। তিনি জানান, ‌স্বাস্থ্যকর্মীরাই আসল হিরো, গোটা দেশের উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।‌ এই কঠিন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দরকার সহানুভূতি ও মানবিকতা। সামাজিক 
দূরত্ব বজায় রেখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোটা খুব দরকার।

৩৯ জন শিশুর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট
শুধু দেশেই নয়। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়ালেন ফিলিপাইনসের ৩৯ জন শিশুর লিভার ট্রান্সপ্লান্টে। বিমানে শিশুদের চিকিৎসার জন্য আনা হবে দিল্লিতে। এর আগে রোগীদের সাধ্যমতো সাহায্য করেছেন তিনি।

পৌঁছল ট্রাক্টর
অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তোর জেলার রাজুভারিপল্লিতে শক্ত হাতে জোয়াল ধরে খেতের ওপর এগিয়ে চলেছেন দুই মেয়ে। লাঙল ধরে বাবা। আর জমিতে বীজ ছড়াচ্ছেন মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হতেই সাহায্যের হাত বাড়ান সোনু সুদ। লকডাউনে বন্ধ নাগেশ্বর রাওয়ের ছোট্ট চায়ের দোকান। দুই মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে সংসার। গ্রামে ফিরে সামান্য জমিতে শুরু করেন চাষবাস। চাষের ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সোনুর টুইট, ‘‌আগামীকাল থেকেই ওই পরিবার বলদ দিয়ে চাষ করতে পারবে। মেয়েরা পড়াশোনায় মন দিক। কৃষকরা দেশের গর্ব। ওঁদের রক্ষা করা উচিত।’‌ এর পর আবার টুইট, ‘‌বলদ নয়, ওই কৃষক পরিবারকে ট্রাক্টরের ব্যবস্থা করে দেব।’‌ তার পরই নাগেশ্বরের পরিবারের কাছে পৌঁছয় ট্রাক্টর।

‘‌ওরা আর অনাথ নয়’‌
তেলেঙ্গনার ইয়াদারি ভুবনগিরি জেলার তিন অনাথ শিশুর সব দায়িত্ব নিলেন সোনু সুদ। সোশ্যাল মিডিয়ার রাজেশ করনাম নামে এক সাংবাদিক ওই তিন শিশুর কথা একটি ভিডিওর মাধ্যমে টুইটারে শেয়ার করেন এবং ট্যাগ করেন সোনু সুদকে। ভিডিওয় ৯ বছরের মনোহরের আর্তি, ‘‌সোনু আঙ্কেল আপনি বহু দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আপনি যদি আমাদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমরা একটু খেয়েপরে বাঁচতে পারি। পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চাই, গরিবদের সেবা করতে চাই। আমাদের কেউ নেই, কোথাও যাওয়ার নেই। দু–একজনের সাহায্যে কোনওক্রমে দিন কাটে।’‌ ১৫ মিনিটের কম সময়েই উত্তর আসে সোনুর। তিনি জানান, ‘‌ওরা আর এখন থেকে অনাথ নয়, ওদের সব দায়িত্ব আমার।’‌

গড়ে দিলেন স্কুল
চন্দ্রা তোমর নামক এক বৃদ্ধা পেটের দায়ে রাস্তায় লাঠি নিয়ে নানা শারীরিক কসরত দেখাচ্ছেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই তাঁকে সাহায্যের অঙ্গীকার গরিবের বন্ধু সোনুর। অঙ্গীকার পূরণ হল গণেশ চতুর্থীর দিন। সোনু সুদ তাঁর জন্য গড়ে দেন একটি মার্শাল আর্টের স্কুল। এলাকার মহিলা ও যুবতীরা যাতে আত্মরক্ষার পাঠ নিতে পারেন। অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কুলের নাম রাখা হয় ‘সোনু সুদ মার্শাল আর্ট স্কুল’‌।

সম্মান
দুঃসময় মানুষ ত্রাতার ভূমিকায় পাশে পেয়েছেন তাঁকে। তারই সম্মান হিসেবে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম আয়োজিত এসডিজি স্পেশ্যাল হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সোনু সুদ। এর আগে এই সম্মান পেয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ডেভিড বেকহ্যাম, নিকোল কিডম্যান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া প্রমুখ। সম্মানপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌রাষ্ট্রপুঞ্জের থেকে সম্মান পাওয়া সত্যিই খুব বিশেষ। যেটুকু করা সম্ভব আমি সেটুকুই করেছি আমার দেশের মানুষের জন্য। কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই নিজের মতো কাজ করেছি।’‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top