আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সাধারণতন্ত্র দিবস কিংবা প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে পালিত হয়ে আসছে গোটা দেশ জুড়ে। এদিন থেকেই দেশ পেল স্বতন্ত্র সংবিধান। দেশের নাগরিকরা পেল অধিকার। স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার মৌলিক অধিকার। সকল নাগরিকের সমানভাবে মত প্রকাশের অধিকার। শত বিরোধিতা সত্ত্বেও সংবিধান প্রণেতারা ভরসা রেখেছিলেন। প্রশাসন, ক্ষমতা, সবকিছুর উর্ধ্বে সাধারণ নাগরিকের ওপরেই ভরসা রাখার সাহস দেখিয়েছিলেন তাঁরা। স্বাধীনতার পরে দেশে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে যা ‘‌প্রজা’র স্বা‌ধীনতা খর্ব করেছে। কিন্তু তারপরেও বলা যায়, এই সময়ে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র সর্বোপরি প্রজাতন্ত্র আজ এদেশে বিপন্ন। বিগত কয়েক বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে তার ভুরিভুরি উদাহরণ মিলবে।  
‌সাধারণতন্ত্র দিবসে সত্যিই কী ‌দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু আছে? প্রশ্নটা এখন ভীষণই প্রাসঙ্গিক। গোটা দেশ জ্বলছে। অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ উপত্যকায়। সাধারণ, নিরীহ মানুষকে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অসমের অবস্থাও একই। দেশ ছাড়ার ভয়ে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এনআরসি, সিএএ–র নামে দেশভাগের চক্রান্ত চলছে। প্রায় ৬ মাস আগে জম্মু–কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়েছিল। অশান্ত কাশ্মীর তারপর থেকেই আরও অশান্ত হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা মাসের পর মাস বন্ধ থেকেছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে পরিষেবা ফিরলেও কাশ্মীর শান্ত তা বলা যায় কি!‌ একদমই নয়। একই ছবি অসমে। গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে। নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। গৃহহীন হয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। ত্রিপুরা সহ বাকি রাজ্যেও একই ছবি। নিজেদের দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয় চেপে বসেছে মানুষের মধ্যে। সম্প্রতি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ। বাকস্বাধীনতার অধিকার দিনের পর দিন খর্ব হচ্ছে। অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে আটক করা হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে সরকার। মিথ্যে অভিযোগে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট। 
কিন্তু এতসব কিছুর মাঝেও ইতিহাস রচিত হচ্ছে। রচনা করছে দিল্লির শাহিনবাগ। কলকাতার পার্কসার্কাস। গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন মহিলারাই। দেশীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ হয়েছে। এতদিন তা ভোট প্রক্রিয়াতেই সীমিত ছিল। এবার সেই মেরুকরণ নাগরিক সমাজেও প্রভাব ফেলেছে। একপক্ষ দেশের গণতন্ত্র–সংবিধান ধ্বংস করতে চাইছে। আরেক পক্ষ রক্ত ঝরাচ্ছে সংবিধান বাঁচাতে।
সরকার অবশ্য একে প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে না। সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। প্রশ্ন ওঠে, এটা কি তা হলে সংগঠিত ষড়যন্ত্র? যা শুধু সরকারকে উল্টে দিতে চায় না, বরং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক সিস্টেমকে পাল্টে দিতে চায়? কারা আছে এর পিছনে? কীভাবে তারা হাজার হাজার মানুষকে সংগঠিত করল? যখন সাধারণ নাগরিক বলল, এটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রশ্ন উঠল, ব্যালট ফাঁকা রাখা কি তাঁদের অধিকারের মধ্যে পড়ে? সরকার বলল, একটা গণতন্ত্র বিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে। তাই সরকার দ্রুত একে 'সন্ত্রাসবাদ’ অ্যাখ্যা দেয়। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। পাঁচশো নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। 
যখন এ সব পদক্ষেপেও কোনও ফলই মেলে না, তখন দক্ষিণপন্থী সরকার দেশে শান্তিভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নানান প্লট তৈরি করে। শহরের সব পথ বন্ধ করে দেয়। শহর কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মাথা নত করে সরকার। উপন্যাসের এই ঘটনা পর্তুগাল বা অন্য গণতান্ত্রিক দেশে এখনও হয়নি। কিন্তু হতে পারে। এদেশেই পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top