সংবাদ সংস্থা,দিল্লি: টাকার দামের রেকর্ড পতনে বেসামাল কেন্দ্র এবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল। গত সপ্তাহেই এ ব্যাপারে নির্দেশ পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে, এমনটাই জানা যাচ্ছে একটি গোপন রিপোর্টে। একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেই রিপোর্ট। যদিও এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।
গত এক মাস ধরে ডলারের তুলনায় টাকার দামে লাগাতার পতনে উদ্বিগ্ন সারা দেশ। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। সমস্যার মুখে দেশের আমদানি–রপ্তানি। কমছে দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ারও। চলতি বছরে ডলার–পিছু টাকার মূল্য পড়ে গেছে প্রায় ১১.৬ শতাংশ, যা সর্বকালীন রেকর্ড। সোমবার বাজার বন্ধের সময় ডলার–পিছু টাকার মূল্য দাঁড়িয়েছিল ৭২.৬৬ টাকা। স্বাধীনতার পর কখনও এত সস্তা হয়নি টাকা। টাকার দামে পতন আটকাতে জুন মাসে ৬১৮ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রি করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। মে মাসেও ৫৮০ কোটি টাকা অর্থমূল্যের মার্কিন ডলার বাজারে ছেড়েছিল তারা। তাই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডলারের ভাঁড়ারও খুব ভাল জায়গায় নেই। এপ্রিল মাসে বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ারে ছিল ৪২,৬০০ কোটি ডলার। আগস্টের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি ডলারে। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিরোধীরাও। সব মিলিয়ে সামগ্রিক চাপের মুখে পড়ে অবশেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হল কেন্দ্র। কী ব্যবস্থা নিলে টাকার দামে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে তা জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
টাকার দামে পতন আটকাতে কেন্দ্রের প্রথম নজর অনাবাসী ভারতীয়দের হাতে থাকা বিদেশি মুদ্রার দিকেই। সেই বিদেশি মুদ্রা বা ডলার টানতে অনাবাসী ভারতীয়দের জন্য আকর্ষণীয় সঞ্চয় প্রকল্প তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে। অনাবাসী ভারতীয়রা এই প্রকল্পে বিদেশি মুদ্রা জমা রাখলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার আরও বাড়বে। তার ফলে ডলারের বিনিময়ে টাকার মূল্যে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র। কিন্তু এভাবে টাকার পতন কতটা সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ফলে অনাবাসী ভারতীয়দের জন্য সঞ্চয় প্রকল্প ছাড়া আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও তা নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। 
অশোধিত তেলের দামবৃদ্ধি, একই সঙ্গে টাকার দাম পড়ে যাওয়া। দুটি কারণে বেসামাল কেন্দ্র যেভাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হল, এরকমটা আগে ঘটেনি বলেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছিলেন, টাকার দাম পড়ায় উদ্বেগের কিছু নেই। তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কিছু হয়নি বলেও আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরই যেভাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হল কেন্দ্র, তাতে অবশ্য উদ্বেগের ছবিটাই ধরা পড়ল।‌

জনপ্রিয়

Back To Top