সংবাদ সংস্থা,বেঙ্গালুরু: বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে তেমন সমাজেই, যেখানে চিন্তার স্বাধীনতা থাকে, মতাদর্শগত হস্তক্ষেপ কম। এই অভিমত নোবেলজয়ী জীববিজ্ঞানী বেঙ্কটরামন রামকৃষ্ণনের। দেশজুড়ে জ্ঞানচর্চার প্রাঙ্গণে হস্তক্ষেপ নিয়ে অভিযোগ উঠছে। ছড়াচ্ছে বিজ্ঞান ও ইতিহাস নিয়ে উদ্ভট সব তত্ত্ব। এই সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর এই মন্তব্য। এবং নিজের মন্তব্যের পক্ষে তিনি নাৎসি জার্মানির নজিরও পেশ করেন।
বুধবার বেঙ্গালুরুতে ‘‌বিজ্ঞান ও সমাজ’‌ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণন বলেন, ‘‌আমি মনে করি, বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে সেখানেই, যেখানে চিন্তা ও মত প্রকাশের প্রকৃত স্বাধীনতা আছে, মতাদর্শগত হস্তক্ষেপ ন্যূনতম।’‌ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় হস্তক্ষেপের উদাহরণ দিতে গিয়ে বেঙ্কটরামন বলেন, নাৎসিরা জার্মানির বিজ্ঞানচর্চাকে কার্যত ধ্বংস করে দেয়। সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে জার্মানির ৫০ বছর লেগে গেছে। সোবিয়েত ইউনিয়নের উদাহরণও দেন রামকৃষ্ণন। বলেন, সেখানকার সরকার একসময় জেনেটিকসের গবেষণার বিরোধিতা করত। সে কারণে জীববিজ্ঞানের চর্চায় কয়েক দশক পিছিয়ে পড়েছিল সোবিয়েত ইউনিয়ন। রামকৃষ্ণনের মতে, চীন এদিক থেকে ব্যতিক্রম। মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও বিজ্ঞানে উন্নতি করছে তারা।
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর আক্ষেপ, বিজ্ঞানমনস্কতার বিকাশ ঘটাতে পারেনি ভারত। তিনি বলেন, ভারতে বিজ্ঞানচর্চায় বেসরকারি বিনিয়োগ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, ভারতের সংবিধানে বিজ্ঞানচিন্তায় উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এ ব্যাপারে বিশেষ সাফল্য পাওয়া যায়নি। ভারত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির জন্য জিডিপি-র কম অংশই ব্যয় করে। ভারত যা লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, সেই অনুযায়ী কাজ করছে না। এদেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু তা দ্রুতগতিতে বাড়ছে না। বিজ্ঞানের গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ চান রামকৃষ্ণন। ‌

বেঙ্কটরামন রামকৃষ্ণন

জনপ্রিয়

Back To Top