‌আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: আদালত অবমাননা মামলায় স্বস্তি পেলেন রাহুল গান্ধী। তিনি আগেই আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে কংগ্রেস নেতাকে ভবিষ্যতে মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকতে বলে মামলাটিতে ইতি টেনেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট ‘‌চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলেছে বলে মন্তব্য করায়‌ রাহুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছিলেন বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষী লেখি। 
এদিন রাফাল পুনর্বিবেচনা মামলা খারিজ করে দেওয়ার পরেই আদালত অবমাননা মামলার রায় আসে। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়াও বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন এস কে কউল ও কে এম জোসেফ। লোকসভা নির্বাচনের আগে আমেঠির একটি সভায় কংগ্রেস নেতা আদালতকে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেছিলেন। আদালত অবমাননার মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করার পর ৮ মে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছিলেন। তারপরেই এদিন আদালত অবমাননা মামলায় ইতি টেনেছে সুপ্রিম কোর্ট। 
রায়ের পর বিজেপি দাবি করে, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত রাহুলের। বিজেপি–র শীর্ষনেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, শুধু শীর্ষ আদালতে ক্ষমা চাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, নিজেকে বাঁচানোর জন্য রাহুল আদালতে ক্ষমা চেয়েছিলেন। দেশবাসীর কাছে এবার তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। বিজেপি কার্যকারী সভাপতি জে পি নাড্ডা টুইটে লেখেন, ‘‌রাস্তা থেকে সংসদে রাহুল ও তাঁর দল মানুষকে ভুল পথে চালনার চেষ্টা করে চলেছেন। রাহুল গান্ধীকে সতর্ক করে দিয়েছে আদালত। রাফাল পুনর্বিবেচনা মামলা খারিজ হয়েছে। সত্যের জয় হয়েছে।’‌ রাহুল অবশ্য আগেই বলেছেন, ভুলবশত আদালতকে জড়িয়ে মন্তব্য করার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাঁর মূল বক্তব্য অর্থাৎ ‘‌চৌকিদার চোর হ্যায়’ থেকে তিনি সরে আসছেন না।
আদালত অবমাননার মামলা হওয়ার পর ১৫ এপ্রিল রাহুলের কাছে তাঁর মন্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। আদালতে হলফনামা পেশ করে রাহুল তাঁর বক্তব্য জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষযটিতে কোনও স্পষ্টতা ছিল না। এরপর লেখির আইনজীবী মুকুল রোহতগি আদালতকে বলেন, এই বক্তব্য খারিজ করে আইন অনুযায়ী রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আদালত ওই হলফনামায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ২৩ এপ্রিল ফের নোটিস পাঠায় আদালত। 
এরপর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি রাহুলের তরফে অতিরিক্ত হলফনামা পেশ করেন। তাতে রাহুল নিঃশর্ত ‌ক্ষমা চান আদালতকে জড়িয়ে মন্তব্যের জন্য। সেই হলফনামায় রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি তিনি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল। তিনি এ কথাও বলেন যে, আদালতকে জড়িয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল তাঁর ‘‌আবেগের বহিঃপ্রকাশ’‌ এবং ‘‌অনিচ্ছাকৃত’‌।
প্রসঙ্গত, গত লোকসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই রাহুল গান্ধী রাফাল মামলায় দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরব হন। এরপর তিনি ‘‌চৌকিদার চোর হ্যায়’‌ বলে প্রচার শুরু করেন।

রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top