আজকালের প্রতিবেদন‌, দিল্লি, ১২ আগস্ট- দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমের ন’‌টি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২২২ ছাড়িয়ে গেল। নিখোঁজ কয়েক হাজার। কেরল, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্রে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। রবিবার থেকে কেরলের বন্যা কবলিত মানুষের সঙ্গে রয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সোমবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ওয়েনাড়ে পৌঁছেছেন। এদিকে কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র পরিদর্শন করে দিল্লি ফিরেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মারাত্মক পরিস্থিতি কেরলে। সেখানে ৭২ জনের মৃত্য হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ৬০ জন। মলপ্পুরমে ধসের পর ১১ জনের শব উদ্ধার হয়েছে। কর্ণাটকেও মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটে ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উত্তরাখণ্ডেও ভয়াবহ বন্যায় ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বেহাল অবস্থা হিমাচল প্রদেশেও। মহারাষ্ট্রে বন্যার কবলে ৭৬১টি গ্রাম। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে, রাজ্যের ২০০টি সড়ক ও ৯০টি সেতুতে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মলপ্পুরমের আকাশে অনবরত চক্কর কাটছে বায়ুসেনার এম আই-‌১৭ হেলিকপ্টার। উদ্ধারকার্যে নেমেছে সেনা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী কেরলে পৌঁছে ‌দু-‌দিন ধরে সাধারণ মানুষের হালহকিকত বোঝার চেষ্টা করছেন। কোঝিকোড় ও মলপ্পুরমের ত্রাণশিবিরে গিয়ে বন্যার্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিন তিনি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ওয়েনাড়ে পৌঁছন। ত্রাণশিবিরে বন্যার্ত এবং সরকারি দপ্তরে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ত্রাণশিবিরে বন্যার্তদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক শিশু রাহুলকে জানায়, সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। রাহুল তাকে বলেন, ‘‌তোমার কাছে চিকিৎসা করাতে আসব তখন।’‌ এদিন ওয়েনাড়ের জন্য বন্যাত্রাণ চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। লিখেছেন, ওয়েনাড় মর্মান্তিক ভাবে বন্যাবিধ্বস্ত। কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন। উদ্ধারকার্য চলছে। বিপন্নদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বেশকিছু সামগ্রীর প্রয়োজন। সামগ্রীর তালিকা–‌সহ মলপ্পুরম ও ওয়েনাড়ের সরকারি আধিকারিকদের ঠিকানা ও ফোন নং উল্লেখ করে জনগণের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।‌‌‌

ওয়েনাড়ে রাহুল। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top