আজকালের প্রতিবেদন‌, দিল্লি: প্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নির্বাচনী সংস্কার হবে?‌ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ দেখে প্রশ্নটা ঘোরাফেরা করছে রাজনীতির অলিগলিতে। নির্বাচনী সংস্কারে কমিশনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনীতিকরাই।
একদিকে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন রুখতে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলি তাদের প্রার্থী–তালিকা প্রকাশ করার আগে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তদের বাদ দিক। অন্যদিকে, নতুন করে ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার কার্ড যোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতে কমিশনের আর্জি, এর আগে প্রার্থীদের হলফনামা জনসমক্ষে প্রকাশ করে সমস্ত মামলার বিবরণ দেওয়া হলেও তাতে ফল কিছু হচ্ছে না। তাই ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এবং অপরাধীদের প্রার্থী করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিক আদালত। শুক্রবার মামলাটি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার সংযো‌গের ক্ষেত্রে কমিশনের যুক্তি, এভাবে ভুয়ো ভোটার ঠেকানো যাবে।  এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার এক সাংসদের মন্তব্য, ‘‌নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অনেকটা হাতির দাঁতের মতো। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি কয়েক দশক ধরে নির্বাচনী সংস্কারের কথা বলে আসছেন। কমিশন কর্ণপাত করেনি। ২০১৪ সাল থেকে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে বহু অভিযোগ উঠেছে। চুপ থেকেছে কমিশন। তাছাড়া ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার সংযুক্তি নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডাকার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নাগরিকের গোপন নথি ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে, এখন কতটা সদিচ্ছা নিয়ে এগোচ্ছে তারা, সেটাই জিজ্ঞাস্য।’‌ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে কমিশনের তরফে বলা হচ্ছে, এই দুই পদক্ষেপে ছাড়পত্র মিললে আরও স্বচ্ছ হবে ভারতের রাজনীতি। শনিবার ছিল নির্বাচন কমিশনের ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ২০১০ সালে আজকের দিনেই শুরু হয়েছিল জাতীয় ভোটার দিবস পালন‌। কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভুয়ো ভোটার ঠেকাতে অনেক আগেই ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার নম্বর যোগ করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। এতদিন তাতে কর্ণপাত করেনি সরকার। তবে সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে ভোটার পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড সংযোগে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক। এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার সংযোগের কাজ শুরু হয়েছিল। পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় মোট ৩৮ কোটি নাগরিকের ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে আধার সংযুক্তি হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত বছর কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রককে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং আধার আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন মনে করছে, আধার তথ্য সংগ্রহ করে অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ থাকলেই তাঁকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করে নির্বাচনে লড়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলার ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। অতীতে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এটি বিতর্কিত বিষয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রোহিনটন নরিম্যানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অশ্বিনী এবং নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে আলোচনায় বসে দুর্বৃত্তায়ন রুখতে নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top