সংবাদ সংস্থা,জয়পুর: গরু পাচারের অভিযোগে রাজস্থানের বেহরোরে পেহলু খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনকেই খালাস করে দিল আদালত। বুধবার প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের খালাসের নির্দেশ দেন আলোয়ারের অতিরিক্ত বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট। 
পেহলুকে নির্মমভাবে পেটানোর ছবি মোবাইলের ফোনের ক্যামেরায় ধরা ছিল এবং সেই ভিডিও দেশজুড়ে ভাইরাল হয়। বিচারক এদিন জানিয়ে দেন, মোবাইলে তোলা ওই ভিডিও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ ওই ভিডিও দেখেই পুলিশ অভিযুক্তদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করে এবং তাদের গ্রেপ্তারও করে। ভিডিওতে দেখা গেছে, গলা ধরে পেহলুকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে লাথি মারছে হামলাকারীরা। অভিযুক্তদের আইনজীবী হুকুমচাঁদ শর্মার মতে, পুলিশের কাছে পেহলু খান প্রাথমিক বিবৃতিতে কারওর নাম বলতে পারেননি। অভিযুক্তদের স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা যায়নি ওই ভিডিওতে। সে কারণেই প্রমাণের অভাব রয়ে গেছে। শর্মার আরও দাবি, মৃত্যুর কারণ নিয়েও ধন্দ রয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে পেহলুর মৃত্যু হয়েছে। অথচ ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে মারধরের সময় আঘাতের কারণেই পেহলুর মৃত্যু হয়েছে। রায় ঘোষণার পর মামলার সরকারি কৌঁসুলি যোগেন্দ্র খাটানা জানিয়েছেন, রায়ের নথি খতিয়ে দেখে তাঁরা উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে তিন জন নাবালক। জুভেনাইল আদালতে তাদের বিচার চলছে। 
এদিন যারা খালাস পেয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে বিপিন যাদব, রবীন্দ্র কুমার, কালুরাম, দয়ানন্দ, যোগেশ কুমার ও ভীম রাঠি। ঘটনার পরপর একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের স্টিং অপারেশনে বিপিন ফলাও করে বলেছিল, কীভাবে পেহলুর ওপর হামলায় সে নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেই ফুটেজের ভিত্তিতে বিপিনের জামিন খারিজের আর্জি জানিয়েছিল রাজস্থান পুলিশ। তবে তাতে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। 
২০১৭ সালের ১ এপ্রিল ৫৫ বছর বয়সি হরিয়ানার নুহ এলাকার বাসিন্দা পেহলু খান তাঁর দুই ছেলে ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে জয়পুরের পশুমেলা থেকে গরু কিনে ফিরছিলেন। দিল্লি–আলোয়ার হাইওয়েতে রাজস্থানের বেহরোরের কাছে তাঁদের আটকায় গোরক্ষকেরা। সেখানেই ট্রাক থেকে টেনে নামিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয় পেহলুকে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেখানেই ৩ এপ্রিল পেহলুর মৃত্যু হয়। ওইসময় রাজস্থানে বিজেপি সরকার। ২ বছর ধরে মামলা চলাকালীন মোট ৪০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ছিলেন ঘটনার দিন পেহলুর সঙ্গে থাকা তাঁর দুই ছেলেও। তবে যিনি ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইলে তুলেছিলেন, তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেননি।  এ মাসের ৭ আগস্ট বিচারপর্ব শেষ করেন অতিরিক্ত জেলা জজ সরিতা স্বামী। এদিনই রায় ঘোষণা করেন তিনি। 

দিল্লিতে ধর্নায় পেহলুর মা অঙ্কুরি বেগম। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top