আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এক প্লেট হায়দরাবাদি বিরিয়ানি কিনতে হলে আপনাকে ঠিক কত টাকা দিতে হয়, প্রায় ২০০ টাকা। আর হকারদের স্টল থেকে যদি সাদা ধোসাও কেনেন তাহলেও দিতে হবে অন্ততপক্ষে ৩০ টাকা। কিন্তু জানেন কি, আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা, এই দুটো খাবারই আমাদের দেশের গণতন্ত্রের মন্দির সংসদের ক্যান্টিনে ঠিক কত টাকায় কেনেন?‌ প্রথম খাবারের দাম ৬৫ টাকা এবং পরেরটার দাম মাত্রই ১২ টাকা।
অবশেষে, এই ব্যবস্থা বন্ধ হচ্ছে। সংসদের ক্যান্টিনের খাবারে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিতে সায় দিলেন সব সাংসদরা। সূত্রের খবর, লোকসভার বাণিজ্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার ওম বিড়লা সুপারিশ করেছিলেন সংসদের ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবার থেকে ভর্তুকি তুলে নেওয়ার জন্য। তাতেই সায় দেন সব সাংসদরা। ভর্তুকি বন্ধ হওয়ায় প্রতি বছর কেন্দ্রের ১৭ কোটি টাকা বাঁচবে।
২০১৫ সালে সংসদের ক্যান্টিনের সব খাবারেই প্রায় ৮০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তখনই জানা যায়, সংসদে চায়ের দাম এক টাকা, চিকেন কারির দাম ২০.‌৫০ টাকা এবং চিকেন বিরিয়আনির দাম ৫১ টাকা। তারপরই দেশজুড়ে হইচই পড়ে যায়, যে বিপুল অঙ্কের বেতন পাওয়া সাংসদরা দেশবাসীর দেওয়া করের অর্থে কীভাবে ভর্তুকিযুক্ত খাবার খেয়ে চলেছেন এতবছর ধরে। তৎকালীন বিজেডি সাংসদ বৈজয়ন্ত জয় পন্ডা স্পিকারকে চিঠিতে এব্যাপারে উল্লেখ করে লেখেন, সব সাংসদরা যদি ক্যান্টিনের ভর্তুকি বন্ধ করে দেন তাহলে তাঁদের উপর মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। তারপর ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর লোকসভায় বিবৃতি দিয়ে সংসদের ক্যান্টিনে খাবারের দাম কিছুটা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়। এখন সংসদের ক্যান্টিনের খাবারের মূল্যতালিকা হল—
মাখন–রুটি  ৬ টাকা
রুটি  ২ টাকা 
চিকেন কারি ৫০ টাকা
চিকেন কাটলেট প্রতি প্লেট ৪১ টাকা
তন্দুরি চিকেন ৬০ টাকা
কফি ৫ টাকা
সাদা ধোসা ১২ টাকা
মাছের ঝোল ৪০ টাকা
হায়দরাবাদি চিকেন বিরিয়ানি ৬৫ টাকা
মাটন কারি ৪৫ টাকা
ভাত ৭ টাকা
স্যুপ ১৪ টাকা       ‌‌  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top