আজকালের প্রতিবেদন: মালগাড়ির ‘‌গয়ং গচ্ছ’‌ বা ‘‌যাচ্ছে তো যাচ্ছেই’‌ ঘরানায় নয়, দেশজোড়া লকডাউনে ভারতীয় রেল চালাচ্ছে ‘‌হুইল্‌স অফ পার্সেল এক্সপ্রেস’‌। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে মেল–‌এক্সপ্রেসের মতোই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছে এই এক্সপ্রেস মালগাড়ি। দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে অত্যাবশকীয় পণ্য। ওষুধও। পূর্বঘোষিত সময়সূচি মাথায় রেখে যে–‌কেউই অত্যাবশকীয় পণ্য পাঠাতেও পারছেন এই দ্রুতগতির মালগাড়ি থেকে। রেলের এই নতুন লাগেজ এক্সপ্রেসে উচ্ছ্বসিত রেলকর্মীরা।
কলকাতার পূর্ব রেল বা দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের পার্সেল এক্সপ্রেস এখন বেশ জনপ্রিয়। লকডাউনে হাওড়া থেকে দিল্লি ভায়া পাটনা আর ভায়া ধানবাদ নিয়মিত দৌড়োচ্ছে এক্সপ্রেস ট্রেন। শুধু দিল্লি কেন, উত্তর–‌পূর্ব ভারত বা দক্ষিণ ভারতেও চলছে পণ্য পরিবহণের এই সময়–‌নির্ধারিত এক্সপ্রেস। তাই গতি এসেছে পণ্য পরিবহণে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সময় ধরে তঁারা মাল আনা–‌নেওয়া করছেন পার্সেল এক্সপ্রেসের মাধ্যমে। দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের সিপিআরও সঞ্জয় ঘোষ জানান, ইচ্ছে করলে পার্সেল এক্সপ্রেস রুটের যে–‌কোনও স্টেশন থেকেই অত্যাবশকীয় সামগ্রী পাঠানো যায়। এর জন্য নির্ধারিত রুটের স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই হবে। প্রয়োজনে যে–‌কোনও স্টেশনেই থামানো হবে দূরপাল্লার এই ট্রেন। মাল পরিবহণকেই তঁারা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উত্তর–‌পূর্ব সীমান্ত রেলের সিপিআরও শুভানন চন্দও লকডাউনের সময়ে পণ্য পরিবহণে রেলের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। জানান, গুয়াহাটি–‌আগরতলা রুটেও তঁারা পার্সেল এক্সপ্রেস চালাচ্ছেন। তঁার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় রেল ১৩৪২ ওয়াগন চিনি এবং ৯৫৮ ওয়াগন লবণ বহন করেছে।
পণ্য পরিবহণের পাশাপাশি রেল করোনা–‌সংক্রমণ থেকে নিজেদের কর্মী ও সাধারণ মানুষদের কল্যাণে একগুচ্ছ কর্মসূচি পালন করছে। কলকাতা মেট্রো সূত্রে খবর, তারা ‘‌আরোগ্য সেতু’‌ অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের কর্মীদের করোনার বিষয়ে সতর্ক রাখছেন। ইতিমধ্যেই ৮৫৫ জন মেট্রো–‌কর্মী এই অ্যাপের সহায়তা নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে গরিব মানুষদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তঁারা। পূর্ব ও দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলও আরপিএফ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে দুঃস্থদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। রেলের কারণে হাওড়া, শিয়ালদা–‌সহ বেশির ভাগ স্টেশনেই দু’‌বেলা খাবার পাচ্ছেন গৃহহীন মানুষেরা।

জনপ্রিয়

Back To Top