আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জম্মু–কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার আগেই গৃহবন্দি করা হয়েছিল উপত্যকার দুই মুখ্য রাজনৈতিক নেতা ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতিকে। গত ১২ দিন ধরেই তাঁরা গৃহবন্দি। জানা গিয়েছে গৃহবন্দি অবস্থায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ভিডিও গেমস্‌ খেলছেন টেকস্যাভি ওমর। উপত্যকায় ইন্টারনেট সংযোগ এতোদিন বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রথমে প্রশাসন তাঁকে ভিডিও গেমস্‌ দিতে চায়নি। কিন্তু ওমর বলেন, তিনি পুরনো গেমস্‌গুলিই খেলতে পারেন যেগুলিতে ইন্টারনেট সংযোগ লাগে না। সেই মতো তাঁকে বেশ কিছু পুরনো ভিডিও গেমস্‌–এর ব্যবস্থা করে দেয় প্রশাসন। এছাড়া জিম করে, হলিউডি ছবি দেখে এবং পায়চারি করে সময় কাটাচ্ছেন ওমর। মেহবুবা অবশ্য প্রার্থনা করে এবং বই পড়েই সময় কাটাচ্ছেন। 
প্রথমে হরি নিবাস প্রাসাদে একইসঙ্গে গৃহবন্দি করা হয়েছিল ওমর এবং মেহবুবাকে। একদিন ওমরকে প্রাসাদের বাগানে পায়চারি করতে দেখে মেহবুবাও পায়চারি করতে চাইলে তাঁকে বাধা দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তখন মেহবুবা ওমরকে অভিযোগ করেন, আবদুল্লা পরিবারের জন্যই কাশ্মীরের এই অবস্থা হয়েছে। এনিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা হয়। তারপরই মেহবুবাকে জম্মু–কাশ্মীর পর্যটন দপ্তরের চশ্‌মে শাহি গেস্ট হাউস এবং ওমরকে বিশেষ কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়।
অন্যদিকে, সম্প্রতি এনসি সুপ্রিমো ফারুক আবদুল্লা একটি হোটেলে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ায় তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে না বেরতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মেহবুবার মেয়ে ইলতিজাকেও তাঁদের বাড়ি থেকে বেরতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিরক্ত ইলতিজাকে সম্প্রতি বন্ধ দরজায় পদাঘাত করতে এবং চিৎকার করতে শোনা গিয়েছিল। ইলতিজা অমিত শাহ্‌–কে চিঠিতে অভিযোগ করেন তাঁকে পশুর মতো খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এছাড়া সাজ্জাদ লোন এবং পিডিপি, এনসি–র অন্যান্য নেতাদের ডাল লেকের পাশে একটি হোটেলে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। সাজ্জাদ লোন পাঁচতারা হোটেল থেকে খাবার চেয়েছিলেন। প্রশাসন অবশ্য তাঁর কিছু বৈধ দাবি পূরণ করেছে।
ছবি বিবিসি.‌কম

জনপ্রিয়

Back To Top