তরুণ চক্রবর্তী: কমেই চলেছে ব্যাঙ্কের সুদের হার। সাঙ্ঘাতিক পরিস্থিতি। প্রবীণদের অবস্থা শোচনীয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে বা স্বনির্ভরদের বৃদ্ধ বয়সে সম্বল বলতে থাকে শুধুই জমানো টাকায় ব্যাঙ্কের সুদ। বললেন বেসরকারি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী অঞ্জন বসু। জানালেন, চিকিৎসার খরচ দিন–‌দিন বাড়ছে। তার ওপর আয় কমছে। তঁার আশঙ্কা, ‘‌একদিন হয়তো সুদটাই তুলে দেবে বিজেপি সরকার!‌ উল্টে টাকা দিয়ে টাকা রাখতে হবে ব্যাঙ্কে!‌ সুদ তো দূরের কথা, আসলটাও মিলবে কি না সন্দেহ!’‌‌ অনেকের আশঙ্কা, চিটফান্ডের মতোই এবার বেহাল দশা হবে ব্যাঙ্কেরও। পেনশন তো শুধু সরকারি কর্মীদের!‌
এই আশঙ্কা অমূলক, মোটেই মনে করেন না এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সুপ্রিয় রায়। তিনি বললেন, ‘‌এক দিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে ইচ্ছেমতো টাকা তুলছে সরকার। অন্য দিকে সুদ কমাচ্ছে।’‌ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মক জায়গায় পৌঁছে গেছে।’‌ তঁার সাফ কথা, জেএনইউয়ের ছাত্রী হলেও নির্মলা সীতারামন অর্থনীতির ‘‌অ–‌আ–‌ক–‌খ’‌টাই বোঝেন না। সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে। চাকরি নেই। বাড়ছে শুধুই দালালির ব্যবসা। আম্বানি–‌আদানিদের স্বার্থই দেখছে বিজেপি সরকার। ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ এই সরকারের আরও একটি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন সুপ্রিয়বাবু।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক স্বপনকুমার সেনগুপ্তর মতে, সুদের হার কমায় প্রবীণ নাগরিকদের সমস্যা হয়ে গেল। সিনিয়র সিটিজেনদের আয়ের একটা বড় উৎস এই সুদ। তবে যঁারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা রেখেছেন, তঁাদের সুদ কমবে না। তবে পরে টাকা জমা রাখতে গেলে কম সুদেই রাখতে হবে। এটা চিন্তার। 
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সরল চক্রবর্তী জানালেন, ‘‌গোটা দেশের অর্থনীতি ভয়ঙ্কর সর্বনাশের দিকে চলেছে। যুদ্ধ–‌যুদ্ধ জিগির তুলে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এত খারাপ পরিস্থিতি কখনও হয়নি। পেনশন তুলে দিতে চাইছে। বাড়িয়ে চলেছে সুদের ওপর কোপ। মানুষ বঁাচবে কী করে?‌’‌ একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ‘‌চিটফান্ডের মতো ব্যাঙ্কগুলিকেও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে ইচ্ছেমতো টাকা তুলছে। আর বড় বড় শিল্পপতিদের হাতে বেচে দিচ্ছে দেশটাকে। প্রতিবাদ করার উপায় নেই। প্রতিবাদ করলেই বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী!’‌‌ তরুণ অর্থনীতিবিদ সেলিম শাহের মতে, দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় চলছে। চরম মন্দার দিকে এগোচ্ছে দেশ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার। মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড করতে চলেছে। কর্মসংস্থান বন্ধ। এই অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত, আধা–‌রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে সাময়িক টাকার জোগান অব্যাহত রাখার ব্যর্থ চেষ্টা চলছে। গচ্ছিত টাকার ওপর সুদ বাড়িয়েও পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top