সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: নিজের হাতে ফাঁসির দড়ি নির্ভয়া–ধর্ষকদের গলায় পরিয়ে দেবেন মিরাট জেলের ফাঁসুড়ে পবন কুমার। আর কয়েকদিন পরেই। জীবনে এই প্রথম। অবশ্য সে জন্য কোনও খেদ নেই তাঁর মনে। বললেন, ‌‘ওরা মানুষই নয়। মরবে জানোয়ারের মতো। নিষ্ঠুর বলেই ওদের ফাঁসিতে মরতে হবে।’‌ 
মিরাটের এক মহল্লায় ছোট্ট ফ্ল্যাট। পবনের বয়স ৫৪। তিনি বলেন, ‌‘অন্যদের শিক্ষা দিতে ওদের মতো লোকেদের ফাঁসিই দিতে হবে। মৃত্যুদণ্ড হলেই অপরাধ কমবে। কারণ, যাবজ্জীবন সাজা দিলে ওরা বেরিেয় এসে আরও অপরাধ করার সুযোগ পাবে।’‌ 
তিন প্রজন্ম ফাঁসুড়ের কাজ করছে পবনের পরিবার। পবনের গুরু তাঁর ঠাকুরদা। তিনিই ফাঁসি দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারীকে। ১৯৮২ সালে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসি দিয়েছিলেন আরও ২ জনকে। পবনের ছেলের বয়স এখন সাত। তাঁর ছেলেও কি ফাঁসুড়ে হবে? উত্তরে নীরব ছিলেন পবন। 
কথাবার্তা চলার মাঝেই পবনের ফোনে বেজে উঠল অ্যালার্ম। ‌‘আপনার নির্ধারিত কুড়ি মিনিট শেষ। এবার উঠুন। আপনি তো একা নন। সারা দেশ, এমনকি বিদেশের লোকেরাও আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়।’ উঠে পড়তে পড়তে বললেন পবন।‌ তবে পবন উগরে দিলেন ক্ষোভ। জানালেন, মাসে ৫ হাজার টাকা ভাতায় পেট ভরে না। তাই এদিক ওদিক আয়ের চেষ্টা করতে হয়। মিডিয়াকে সময় দিয়েও বোধহয় কিছু আয় হয়। তবে তাঁর আশা, ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পর তাঁর হাল ফিরিয়ে দেবেন দেশের মানুষ। ‌‘আশপাশের লোকেরা আমাকে ভালই বাসে। তবে আমি নিশ্চিত, ফাঁসির পর আমার সম্মান আরও বেড়ে যাবে’, বললেন ফাঁসুড়ে পবন কুমার। 
এদিকে দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসির অপেক্ষায় দিন গুনছে নির্ভয়া–‌কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত চার অপরাধী অক্ষয়, পবন, বিনয় ও মুকেশ। কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই চারজনের গলার মাপ নিয়ে গেছে জেল কর্তৃপক্ষ। কলা ঘষে ঘষে নরম করা হচ্ছে ফাঁসির দড়ি যাতে সহজে গলায় বসে যেতে পারে। এমন টুকরো টুকরো খবর সামনে আসছে মিডিয়ার দৌলতে। তবে এখনও আশা ছাড়েনি মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত অক্ষয়কুমার সিং ও পবন সিং।  শুক্রবারও আইনজীবীর মাধ্যমে আর্জি পেশ করেছে তারা। আর্জির মূল কথা, শীর্ষ আদালতের রায় সংশোধনের আর্জি জানাতে চায় তারা দুজন। সেজন্য প্রয়োজনীয় নথি এখনও দেয়নি তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। দিল্লির আদালতে এই আর্জির শুনানি হবে আজ শনিবার। তাহলে কি ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে নির্ধারিত সময়ে চারজনের ফাঁসি হচ্ছে না? উত্তর অনেকটাই নির্ভর করছে শনিবার আদালতের রায়ের ওপর। তবে এখন এটা স্পষ্ট যে ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সাজাপ্রাপ্তরা।‌

মিরাটের বাড়িতে পবন কুমার। ছবি: এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top