আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘‌অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা।’‌ কথাটি একেবারেই সত্যি। বিশেষ করে কোনও বন্দী যখন জেলে থাকে, তখন তার জীবন কাটানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। দিন–রাত তার কাছে এতটাই দীর্ঘ হয়ে যায় যে কোনও কিছু চিন্তা–ভাবনা করতে পারে না সে। বন্দীরা তাদের মানসিক শক্তিও হারিয়ে ফেলে, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তবে বন্দীরা যদি নিজেদেরকে কোনও কাজে ব্যস্ত রাখে তবে অনেক সময়ই তাদের মধ্যে বহু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমনটা করে দেখাল নবি মুম্বইয়ের তালোজা সেন্ট্রাল জেলের বন্দীরা। 
বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ইয়ারদা জেলে থাকাকালীন তিনি রেডিওতে নিজের অনুষ্ঠান করেছিলেন। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তালোজা জেলের বন্দীরাও শুরু করল নিজেদের রেডিও স্টেশন। খুব শীঘ্রই তাদের রেডিও স্টেশন অন এয়ার হবে। যেখানে দুপুর ১২টা বাজলেই জেলের চার দেওয়ালের বন্ধ পরিবেশ বদলে যাবে রেডিও স্টেশনে। বন্দীরা শ্রোতাদের প্রেম, আনন্দ এবং নেতিবাচক থাকা নিয়ে পরামর্শ দেবেন এবং সঙ্গে থাকবে কিংবদন্তী গায়ক কিশোর কুমারের পুরনো দিনের গান। রেডিও জকি সাদিক বন্দীদেরকে জানিয়েছেন, জেলে থাকার দিনগুলি শুধুমাত্র জীবনের বাজে সময়।

আরও ভালো দিন আসবে তাদের জীবনে। মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলে প্রথম পর্যায়ে এই বন্দীদের রেডিও স্টেশন এয়ার হবে। এর গোটাটাই পরিচালনা করছে বন্দীরাই।  
প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য বন্দীদের এই রেডিও স্টেশন খুলতে একটু দেরি হচ্ছিল। তবে আশার আলো নিয়ে হাজির হল নবি মুম্বইয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থার সদস্যরাই মিক্সার, ল্যাপটপ এবং মাইক্রোফোন সহ রেডিওর যন্ত্রপাতি তাদের হাতে তুলে দেয়। বন্দীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। রেডিওর তিনজন সদস্য আর জে, চিত্রনাট্যকর ও সিস্টেম অপারেটরের কাজ করবেন বন্দীদের সঙ্গে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বন্দীদের এই অনুষ্ঠান চলবে বলে জানা গিয়েছে। জেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রথমে বন্দীরা তাদের অনুষ্ঠান রেকর্ড করার পর তা পরের দিন এয়ার হবে। জানা গিয়েছে প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে বন্দীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। খুব তাড়াতাড়ি রেডিওর কাজও তারা শিখে নিয়েছে। এই রেডিওর অনুষ্ঠানে বন্দীদের অনুরোধে গান শোনানো হবে। এই অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘‌আপ কি ফরমাইশ’‌। বিভিন্ন জেলের বন্দীরা তাদের গানের অনুরোধ পাঠাবে এবং তা শোনানো হবে এই অনুষ্ঠানে।     

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top