সব্যসাচী সরকার: লক্ষ লক্ষ বছর আগেকার জীবাশ্ম উদ্ধার হল ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে। আদতে এটি একটি বিশেষ ধরনের ফার্নের পাতা। ভূবিজ্ঞানী এবং জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কমবেশি ৭০ লক্ষ বছরের পুরনো। জুরাসিক যুগের এই ফার্নগুলি ডাইনোসরদের খাদ্য ছিল। তৃণভোজী ডাইনোসরের যুগের জীবাশ্ম এমনই গবেষণায় পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ফসিল পাওয়া গেছে কোয়ার্টজ পাথরে। সেগুলি নিয়েও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দুটি পাথরের টুকরো এমনভাবেই উদ্ধার হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় গ্রামে পুজো–‌আচ্চা শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল বোটানিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা লখনউ থেকে পালা করে এসে গবেষণা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে দু’‌জন ভূবিজ্ঞানী দিনরাত ফসিলের সূত্র সন্ধানে ব্যস্ত। প্রায় ১২ বছর ধরে এই খোঁজা চলছে। পাওয়াও যাচ্ছে অজস্র নমুনা।
শুধু সাহেবগঞ্জ নয়, কয়েক বছর ধরেই মহারাজপুর, তারপাহাড়, গর্মিপাহাড়, বারহারোয়া ইত্যাদি অঞ্চলে নানা ধরনের জীবাশ্ম মিলেছে। এখন শুরু হয়েছে দুধকোল পাহাড়ে পাওয়া ২০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৫ সেন্টিমিটার চওড়া ওই ফার্নের ফসিল নিয়ে হইচই। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞরা পাথর খুঁড়ছিলেন, দেখা গেল পাথরের স্তর সরাতেই ওই ফার্ন প্রস্তরীভূত হয়ে রয়েছে। কখনও কখনও পাওয়া যাচ্ছে উজ্জ্বল পাথর। আলো পড়লেই চকচক করছে। তা নিয়েই শুরু হয়েছে গ্রামের মানুষদের নিত্য যাতায়াত। এর সঙ্গেই মিশে যাচ্ছে স্থানীয় ‘‌বাবা’‌দের নানা ব্যাখ্যা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জীবাশ্ম গোটা অঞ্চলেই বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে। মনে করা হচ্ছে, মাইল মাইল এলাকা জুড়ে গভীর বনভূমি ছিল। তাতে নানা ধরনের গাছপালার সঙ্গে জুরাসিক যুগের প্রাণীদের খাদ্য ফার্নও ছিল।
ভূবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গোটা অঞ্চলের খননকার্যের পর ভূবিজ্ঞানের গবেষণার ইতিহাসে বহু কিছু সংযোজিত হতে চলেছে। ঝাড়খণ্ডের পাকুড়েও (‌পাথর ভাঙার কলকারখানার জন্য বিখ্যাত)‌ বিক্ষিপ্তভাবে উঠে আসছে প্রস্তরীভূত নানা ফসিল উপাদান। এখন ফার্ন নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা গবেষণা। জুরাসিক যুগে তৃণভোজী ডাইনোসররা এইগুলি খেয়ে বেঁচে থাকত বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশা, অচিরেই পাওয়া যাবে তৃণভোজী ডাইনোসরের জীবাশ্মও। বিশিষ্ট ভূবিজ্ঞানী রঞ্জিতকুমার সিং জানিয়েছেন, রাজমহল পাহাড় ঘিরে বহু ফসিল ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা খোঁজ চালাচ্ছি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top