আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: ‘‌সাসপেন্ড করতে পারো, মুখ বন্ধ করতে পারবে না,’‌ মোদি সরকারকে ‌এই হুঁশিয়ারি দিল বিরোধীরা। কৃষি বিলের বিরোধিতায় প্রথমে রাজ্যসভা, পরে লোকসভাও বয়কট করল বিরোধী শিবির। পাশাপাশি, সংসদে ‘‌গণতন্ত্র হত্যা’‌র প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের শরণাপন্ন হয়েছে ১৭টি বিরোধী দল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে বিরোধী সাংসদদের অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছেন ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং। একদিনের অনশন পালন করছেন তিনি। সব মিলিয়ে সংসদের অন্দরের অশান্তি পৌঁছে গেল রাষ্ট্রপতি ভবনে। 
কৃষি বিল নিয়ে মোদি সরকারের ‘‌মুখোশ’‌ ‌খুলে দিতে দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহরে জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী শিবির। রণকৌশল ঠিক করতে বুধবার সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল ‌‌বৈঠকে বসছেন বিরোধী নেতারা। তৈরি করা হয়েছে ছ’‌জনের সমন্বয় কমিটি।
বিরোধীরা আশা করছেন, প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে অনুসরণ করবেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি। সংসদে পাশ হওয়া বিতর্কিত কৃষি বিলগুলি ফের সংসদে ফেরত পাঠাবেন তিনি। রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতেও এই দাবি জানানো হয়েছে। দেখা করেও একই দাবি জানাবেন তাঁরা। ২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‌জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ‌মন্ত্রিসভার অধ্যাদেশ ফেরত পাঠিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান বিরোধী সাংসদরা। সেক্ষেত্রে বিরোধীদের তরফে জনা কয়েক প্রতিনিধি কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। 
এদিকে রাজ্যসভা বয়কট প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেছেন, ‘‌সংসদ মানে বিতর্ক, আলোচনা, সিদ্ধান্ত। বিশৃঙ্খলা নয়। সবাইকে নিয়ে সভা হওয়া উচিত। আমার কথাই শেষ কথা, এই মানসিকতা গ্রহণযোগ্য নয়।’‌ ২০ সেপ্টেম্বর ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের সভাপতিত্বেই বিতর্কিত দুটি কৃষি বিল পাশ হয়। বিল দুটি পর্যালোচনা ও পরামর্শের জন্য সংসদের যৌথ সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তুলেছিল বিরোধী এবং সরকারের কয়েকটি বন্ধু দল। কিন্তু, ডেপুটি চেয়ারম্যান তাতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। যা নিয়ে ‘‌গণতন্ত্র হত্যা’‌র অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। সেদিন রাজ্যসভায় নজিরবিহীন তুমুল বিশৃঙ্খলার জেরে মার্শাল নামাতে হয়। ঘটনার নিন্দায় এক দিনের অনশন পালন করছেন হরিবংশ। পুরো ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতিকে তিনি লিখেছেন, ‘‌গত দু’‌‌দিন ধরে আমি যন্ত্রণা, বিরক্তি ও মানসিক অশান্তির মধ্যে রয়েছি। গণতন্ত্রের নামে আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন বিরোধী সাংসদরা। রুলবুক ছিঁড়ে আমার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন সাংসদ টেবিলে উঠে পড়েছিলেন। অসংসদীয় ভাষায় কটূক্তি করা হয়েছে। পুরো ঘটনা মনে করে রাতে ঘুমোতে পারছি না। এর প্রতিবাদে একদিনের অনশন পালন করছি।’‌
এদিকে, কৃষি বিলে ৩টি সংশোধনী–‌‌সহ ৮ সাংসদের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার রাজ্যসভা ও লোকসভা বয়কট করেছে সব কটি বিরোধী দল। প্রথম রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী সংসদের বাইরে অনেক কথা বলছেন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে হস্তক্ষেপ না–করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু, তাতে দেশবাসীর ভরসা নেই। সংসদের বাইরে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আদালতে মামলা করা যায় না।’‌ তাঁর দাবি, সরকারকে নতুন একটি বিল আনতে হবে। তাতে থাকবে বেসরকারি উদ্যোগে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নীচে ফসল কেনা যাবে না। স্বামীনাথন কমিশনের প্রস্তাবিত ফর্মুলা মেনেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এমনকী, ফুড কর্পোরেশনের মতো সরকারি সংস্থাগুলিও সহায়ক মূল্যের নীচে ফসল কিনতে পারবে না। এবং সাসপেন্ডেড সাংসদদের শাস্তি প্রত্যাহার করতে হবে। ‌এই ৩টি দাবি না–মানা পর্যন্ত রাজ্যসভা বয়কট চলবে।’‌ পরে, লোকসভাতেও কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন বিরোধী সাংসদরা। তারপর সভা বয়কট করা হয়।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’‌ব্রায়েন (‌সাসপেন্ডেড)‌ জানিয়েছেন, ‘‌সরকার সংসদে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তারাই আবার বিরোধী সাংসদদের ক্ষমা চাইতে বলছে। আমরা ক্ষমা চাইব না। ১৭টি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে বিলে সই না করার আর্জি জানানো হয়েছে। দেখা করার সময় চাওয়া হয়েছে। সংসদের বাইরে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য ছ’‌জনের একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। আমরা দিল্লি থেকে ফিরে গিয়ে প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহরে সরকারের মুখোশ খুলে দেব।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top