সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: কোভিড মোকাবিলায় ভারতের জন্য সুখবর। পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া আগামী বছর তৈরি করবে কোভিড ১৯–‌এর টিকার বাড়তি আরও ১০ কোটি ডোজ। মোট ২০ কোটি ডোজের মধ্যে ১০ কোটিই তৈরি হবে এ দেশের জন্য। মঙ্গলবার এ খবর জানানো হয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউটের তরফে। এজন্য বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেট্‌স ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন্‌স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন্‌স বা গ্যাভি–র কাছে থেকে পাওয়া বাড়তি  ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা কাজে লাগাবে সিরাম ইনস্টিটিউট। আগস্টে ঠিক ছিল, ২০২১ সালে তৈরি হবে টিকার ১০ কোটি ডোজ। এখন তা বেড়ে হল ২০ কোটি ডোজ। আগে গেট্‌স ফাউন্ডেশন ও গ্যাভি দিয়েছিল ১৫ কোটি ডলার। এখন তারা দিচ্ছে মোট ৩০ কোটি ডলার। এই টিকার দামও হবে কম। প্রতি ডোজ সর্বোচ্চ ৩ ডলার বা ২৫০ টাকা। এই খবর জানিয়ে এদিন সিরাম ইনস্টিিটউটের পক্ষে বলা হয়, দ্বিগুণ উৎপাদনের জন্য তারা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেট্‌স ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন্‌স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন্‌স বা গ্যাভি–‌র কাছে পাওয়া বাড়তি ১৫ কোটি ডলার কাজে লাগাবে। তৈরি হবে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্স ইনকর্পোরেশনের টিকা। ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসে কোভ্যাক্স স্কিেম এই ডোজগুলি সরবরাহ করা হবে।
সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এদিন বলা হয়, ‘আগস্ট মাসে জানানো হয়েছিল যে গেট্‌স ফাউন্ডেশন ও গ্যাভি–‌র সঙ্গে সহযোগিতায় টিকার ১০ কোটি ডোজ সরবরাহ করা হবে। এখন বাড়তি আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। তাই এই তিন সংস্থা মিলে সরবরাহ বাড়িয়ে করা হবে ২০ কোটি ডোজ।’ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ২০২১ সালে ভারতের জন্য তারা অতিরিক্ত ১০ কোটি ডোজ কোভিডের টিকা তৈরি করবে। ভারত ছাড়াও টিকা তৈরি হবে গরিব ও মাঝারি আয়ের দেশগুলির জন্য।
এদিন ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আদর পুনাওয়ালা বলেন, ‘এই পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সরকার, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত হল এক সঙ্গে কাজ করা, যাতে কেউই কোভিডের টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়। আমরা চাই যে–‌টিকা তৈরি হবে, তা যেন বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছোয়। এবং সকলকে প্রতিরোধ–‌ক্ষমতা জুগিয়ে অতিমারীকে নিয়ন্ত্রণে আনে। গেট্‌স ফাউন্ডেশন, গ্যাভি ও সিরাম–‌এর উদ্যোগেরও লক্ষ্য সেটাই।’ তঁার কথায়, ‘আর্থিক সহায়তার টাকায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্স–‌এর সম্ভাব্য টিকার উৎপাদন শুরু করবে সিরাম ইনস্টটিউট।’ তিনি জানান, পুরো লাইসেন্স এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্‌–‌গুণমানের শর্ত পূরণের পরেই এগুলি সংগ্রহ করা যাবে। 

গত শনিবারই পুনাওয়ালা টুইটে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আগামী বছর দেশের সকলের কাছে  কোভিডের টিকা পৌঁছে দিতে দরকার হবে ৮০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের ভঁাড়ারে কি সেই টাকা আছে? আর, এদিনই টিকার বাড়তি ডোজ উৎপাদনের খবর জানালেন তিনি।
বাড়তি টিকা উৎপাদনের এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। হু ও গ্যাভি–‌র লক্ষ্য ২০২১ সালের শেষে কোভিডের টিকার ২০০ কোটিরও বেশি ডোজ তৈরি করে ফেলা। এই পরিকল্পনায় জড়িত রয়েছে বিশ্বের ১৫০–‌র বেশি দেশ। তবে শামিল হয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ইতিমধ্যেই সিরাম ইনস্টিটিউট মার্কিন সংস্থা কোডাজেনিক্স ইনকর্পোরেশনের সম্ভাব্য টিকার উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। এই টিকার মানবদেহে পরীক্ষার প্রথম পর্ব এ বছরের শেষ দিকেই শুরু হয়ে যাবে।

জনপ্রিয়

Back To Top