আজকালের প্রতিবেদন: অতিমারী আবহে শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পঠনপাঠনের সময়সীমাও সেমেস্টার–পিছু প্রায় ২ ‌মাস করে কমে গেল।
মঙ্গলবার করোনা পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। টুইট করে এই ক্যালেন্ডারটি প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক।
ইউজিসি–র প্রকাশিত ক্যালেন্ডারে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাবর্ষের ১ বছরের মেয়াদ কমে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০ মাসে। ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে। অর্থাৎ, ওইদিন থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। এই সময় অনলাইন, অফলাইন অথবা দু’‌ভাবেই ক্লাস নেওয়া যাবে। এই শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়ে ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ৩০ আগস্ট থেকে। নভেম্বর থেকে যে শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে চলেছে, তার সেমেস্টারের মেয়াদও প্রায় ২ ‌মাস কমে গেছে। একটি সেমেস্টার যেখানে ৬ মাসের হয়, নতুন শিক্ষাবর্ষে তা কমে হবে ৪ মাসের। ক্যালেন্ডারটিতে কবে থেকে প্রথম–সহ বিজোড় সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হবে, বিরতি কখন, পরীক্ষা কবে, ইভন বা জোড় সেমেস্টারের ক্লাস এবং পরীক্ষা কবে থেকে শুরু ইত্যাদি সবই বলে দেওয়া হয়েছে।  
স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষে ভর্তিপ্রক্রিয়া অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। আসন ফাঁকা থাকলে তা পূরণের জন্য অবশ্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি নেওয়া যাবে। দুটি স্তরেই ১ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা বলা হয়েছে। তবে কোনও কারণে ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ অক্টোবরে সম্ভব না হলে ১ নভেম্বরের বদলে ১৮ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করা যাতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষে ভর্তিপ্রক্রিয়া চলছে।

 যা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ১ নভেম্বর থেকে স্নাতকোত্তরের ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। ইউজিসি–র ক্যালেন্ডার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (‌‌ওয়েবকুটা)–র‌‌ সভাপতি শুভোদয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘‌শিক্ষাবর্ষ বাঁচুক আমরা সকলেই চাই। কিন্তু পড়াশোনা যেন এমনভাবেই হয়, যাতে সমাজের প্রান্তিক স্তরে থাকা পড়ুয়াটি বঞ্চিত না হয়।’‌ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস সরকার বলেন, ‘‌যেভাবে ক্যালেন্ডারটি বানানো হয়েছে তাতে প্রতিটি সেমেস্টার থেকে প্রায় ২ ‌মাস সময় কমে যাচ্ছে। ফলে পাঠ্যক্রমও কমাতে হবে। অনলাইনে প্র‌্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হলে তার পাঠ্যক্রম কীভাবে কমানো হবে তা নিয়ে ভাবা দরকার।’‌ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ‘‌কুটা’‌র সভাপতি পার্থিব বসু বলেন, ‘‌দেশ জুড়ে উচ্চশিক্ষার পঠনপাঠনে সমতা রাখতেই এই ক্যালেন্ডার। তা সত্ত্বেও এর মধ্যে একটা সব কিছু কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ঝোঁক রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজ্যগুলির হাতে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছাড়লে ভাল হত।’‌
ইউজিসি–র প্রকাশিত ক্যালেন্ডারে যে বিষয়গুলি বলা হয়েছে, তা হল— ‌১)‌‌ দুটি স্তরেই প্রথম বর্ষে ভর্তিপ্রক্রিয়া অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে। ২)‌‌ আসন যদি ফাঁকা থাকে সেক্ষেত্রে তা পূরণের জন্য ভর্তির শেষ দিন ৩০ নভেম্বর। ৩)‌‌ ২০২০–২১–র শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে। ৪)‌‌ প্রথম সেমেস্টার বা বিজোড় সেমেস্টারের পরীক্ষা জন্য প্রস্তুতিকালীন বিরতি ২০২১–এর ১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত। ৫)‌‌ প্রথম এবং বিজোড় সেমেস্টারের পরীক্ষা হবে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। ৬)‌‌ পরের সেমেস্টারের ক্লাস শুরুর আগের বিরতি ২৭ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল। ৭)‌‌ ইভন বা জোড় সেমেস্টারের ক্লাস শুরু ৫ এপ্রিল থেকে। ৮)‌‌ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিকালীন বিরতি ১ থেকে ৮ আগস্ট। ৯)‌‌ ইভন সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু ৯ থেকে ২১ আগস্ট। ১০)‌‌ পরবর্তী সেমেস্টারের ক্লাস শুরুর আগে বিরতি ২২ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট। ১১)‌‌ পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ৩০ আগস্ট থেকে।
একই সঙ্গে ইউজিসি জানিয়েছে, কোনও পড়ুয়া যদি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অন্যত্র চলে যায়, তাহলে করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভর্তির পুরো ফি ফেরত দিতে হবে। কোনওরকম টাকা কাটা যাবে না। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি বাতিল করলে ১,০০০ টাকার বেশি ক্যান্সলেশন চার্জ নেওয়া যাবে না।

জনপ্রিয়

Back To Top