সংবাদ সংস্থা, পাটনা: তেজস্বী যাদবের সভায় ভিড়ের বহর দেখে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেননি নীতীশ কুমার। শালীনতা ভেঙে নির্বাচনী জনসভায় বলেন,‘একটা পুত্রসন্তান পাওয়ার জন্য যারা আট বা নয় সন্তানের জন্ম দেয়, তারা আবার দেশের উন্নয়ন কী করবে?’ তবে এসব বলে এবার এত সহজে পার পাচ্ছেন না নীতীশ। একদিকে রাবড়ি দেবীর গ্রাম সেলারকলা, অন্যদিকে লালুপ্রসাদের গ্রাম ফুলওয়ারিয়ার বাসিন্দারা, বিশেষ করে দুই গ্রামের মহিলারা ঝঁাঝিয়ে উঠেছেন নীতীশের বিরুদ্ধে। 
রাবড়িদেবীর গ্রামের এক বয়স্ক মহিলার সরাসরি ঠেস, ‘নীতীশজির মাথাটা গেছে। তিনি আবার নিজেকে বলেন শিক্ষিত! জনসভার মঞ্চ থেকে কার কটা সন্তান, এসব প্রসঙ্গে মন্তব্য করাটা তঁার মতো মানুষের মুখে শোভা পায় না। বলার আরও অনেক বিষয় ছিল তঁার।’ আরেক মহিলার বক্তব্য, ‘আগেকার দিনে বড় পরিবারই ছিল ঐতিহ্য। নীতীশ কুমারেরও তো সন্তান আছে। তিন কিংবা চার দশক আগে কী ঘটে গেছে, এখন সে সব কথা বলার সময় নয়। কেউ যদি অতীত নিয়ে বাস করেন, তা হলে তিনি ভবিষ্যতে রাজ্যকে কী নেতৃত্ব দেবেন?’ প্রায় একই সুর লালুপ্রসাদের গ্রাম ফুলওয়ারিয়ার বাসিন্দাদের। এখানকার এক বাসিন্দা বললেন, ‘মনে হচ্ছে, কুর্সি হারানোর ভয়ে সামান্য শালীনতাটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন নীতীশ। মহিলাদের অসম্মান করে কথা বলার অধিকার তঁাকে কে দিল?’ নীতীশের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে আরেক বাসিন্দার আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য, ‘‌এই গ্রাম থেকে এসেছেন রাজ্যের দুই মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রাসাদ ও রাবড়ি দেবী। সেই কারণেই ফুলওয়ারিয়া আজ এত এগিেয়। এবার তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রীও আসতে চলেছেন এই গ্রাম থেকেই।’‌ 
ফুলওয়ারিয়ায় এখন স্টেশন আছে, হেলিপ্যাড আছে, জমি রেজিস্ট্রি করার অফিস আছে, আছে পোস্ট অফিস, ব্যাঙ্ক, সরকারি স্কুল ও রেফারাল হাসপাতাল। সবই হয়েছে আরজেডি আমলে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে এক গ্রামের যুবক বললেন, ‘নীতীশজি এই এলাকার জন্য কিছুই করেননি। এবার তেজস্বী বলেছে সবাইকে চাকরি দেবে। এটাই এবারের ভোটের ইস্যু।’ তবে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের নীতীশের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন জেডিইউ নেতা রাজীব রঞ্জন। তঁার দাবি, হইচই জুড়ে দেওয়ার মতো কোনও কথা বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। মেয়েদের শিক্ষা এবং তঁাদের ক্ষমতায়নের জন্য সবসময় সোচ্চার থেকেছেন তিনি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top