জয়দীপ সেন: প্রবাসে থেকেও বনেদি পুজোর স্বাদ পেতে চান? তাহলে আপনাকে আসতেই হবে নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজোতে। ৭২ বছরের পুরনো একচালার এই প্রতিমা বম্বেবাসী বাঙালিদের কাছে খানিকটা শোভাবাজার রাজবাড়ি বা লাহা বাড়ির পুজোর স্বাদ এনে দেয়।  ১৯৪৮ সালে পদ্মশ্রী শশধর মুখার্জি ও আরও পাঁচ বাঙালি মিলে এই পুজো শুরু করেন তৎকালীন নর্থ বম্বেতে।
গোটা বাণিজ্য নগরীতে এই পুজো মুখার্জিদের পুজো অর্থাৎ কাজল ও রানি মুখার্জিদের পুজো নামে পরিচিত। ২০১৭ পর্যন্ত জুহুতে এই পুজো আয়োজিত হলেও গতবছর থেকে স্থান বদলেছে। ভিলে পার্লের গোল্ডেন টোব্যাকো ফ্যাক্টরির মাঠ পুজোর চারদিন প্রবাসী বাঙালিদের আড্ডাস্থল। অষ্টমী কিংবা নবমীতে সন্ধিপুজোর আরতি দিতে বলিউডের প্রথম সারির সব তারকাই এই পুজোতে সপরিবার উপস্থিত হন। গতবছর এই পুজোর দায়িত্বে ছিলেন অভিনেতা কাজল। এ বছর সেই দায়িত্ব পড়েছে রানি মুখার্জি চোপড়ার ওপর। এভাবেই পর্যায়ক্রমে মুখার্জি বাড়ি ভাগ করে নেয় পুজোর আয়োজন। এবারের পুজো প্রসঙ্গে ‘মরদানি-২’র শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকা রানির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের অন্যতম সদস্য সুমনা চক্রবর্তীর দাবি, ‘‌পঞ্চমীর সন্ধ্যা থেকে প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন অতিথিরা। সেদিন উন্মোচিত হবে দেবীর মুখ। 
রীতি মেনেই সপ্তমী থেকে নবমী দুপুর; চলবে ভোগ বিতরণ ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকে ধুনুচি নৃত্য ও ঢাকের তালে কোমর দোলানো।’‌
তারকার তকমা ঝেড়ে আম মুম্বইকারদের সঙ্গে মিশে সেই তালে পা মেলান কাজল–‌রানি–‌সর্বাণী; ক্যাটরিনা, সুস্মিতা, দীপিকা, রণবীর ও আলিয়ারা। প্রবাসী যাঁরা প্রতিষ্ঠিত বাঙালি; যেমন ধরুন; প্রীতম, অনুরাগ বসু; সুজয় ঘোষ; প্রদীপ সরকার— পুজোর চারদিন এঁদের সান্ধ্যকালীন আড্ডাস্থলও গোল্ডেন টোব্যাকো ফ্যাক্টরির এই মাঠ। মূলত সেলিব্রিটিদের কাছ থেকে দেখতে সন্ধ্যা বাড়ার সঙ্গেই এই পুজোতে ভিড় বাড়ান সাধারণ মানুষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে এই পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পুজোর কাজ পরিচালনায় মহিলাদের সক্রিয়তা। সে ভোগ বিতরণ হোক কিংবা ভোগের সবজি কাটা। সন্ধিপুজোর আরতি কিংবা সন্ধ্যারতি; একদম প্রথম সারিতে কমিটির মহিলারা। পাশাপাশি এমন কোনও অতিথি নেই; যে বা যাঁরা ভোগ না পেয়ে বাড়ি ফেরেন। এমনও উদাহরণ আছে; অতিথি আপ্যায়ন শেষে পরিবার ও কমিটির লোকেরা ভোগ নেবেন, তখনও যদি কেউ ভোগপ্রার্থী হয়, কমিটির সদস্যদের সঙ্গেই তাঁকে ভোগ বিতরণ করা হয়। অত্যন্ত নিষ্ঠা ও শিষ্টাচার মেনে পুজোর তিনদিন চলে ভোগ বিতরণ ও পুজোর আয়োজন। বাঙালি ঘরানার খাবার ও বাঙালি পরিবেশে পুজোর চারদিন নর্থ বম্বের পুজো মানে একটুকরো বনেদিয়ানা।

গত বছরের পুজোয় প্রতিমার সামনে কাজল দেবগণ। সৌজন্য: পুজো কমিটি‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top