সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ২৩ মে- দেশজুড়ে মোদি–ঝড়। তাতেও অক্ষত পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং–এর জাহাজ। তাঁর রাজ্যে সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারল না বিজেপি। কংগ্রেস পকেটে পুরলো মোট ১৩ আসনের মধ্যে ৮টি। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী–পত্নী প্রীনিত কাউরও রেকর্ড মার্জিনে জিতে নিলেন পাটিয়ালা লোকসভা আসনটি। এই নিয়ে চারবার এই আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হলেন তিনি। 
দেশজুড়ে গেরুয়া স্রোতের মধ্যেও উত্তরের এই রাজ্যে যেভাবে কংগ্রেস তার আধিপত্য বজায় রেখেছে, তার পুরো কৃতিত্বটাই অমরিন্দর সিং তুলে দিয়েছেন দলীয় কর্মীদের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রাক্তন সেনা আধিকারিক অমরিন্দর সিং–এর জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও মন্তব্যই এই রাজ্যে নরেন্দ্র মোদিকে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এবারের নির্বাচনে ’‌৮৪–তে পাঞ্জাবের শিখ দাঙ্গাকে হাতিয়ার করেছিল অকালি দল ও বিজেপি–র জোট। তাদের সেই প্রচারকে ঠেকাতে ২০১৫–র বেহবল কালান এবং কোটকাপুরায় পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশ্যে বারগারি এলাকায় চটজলদি স্মৃতিসৌধ তৈরি করে দেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়টিও রাজ্যের মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। যা তাঁকে এবারের নির্বাচনে অক্সিজেন জুগিয়েছে। ‌
এছাড়া, অতীতে পাঞ্জাবিদের ধর্মগ্রন্থকে বিজেপি–‌র অশ্রদ্ধার অভিযোগ টেনে এনে লোকসভা নির্বাচনের আগে অমরিন্দর সিং ব্যাপক প্রচার চালান। তিনি বলেন, বালাকোটে বিমান হামলা একটা ঘটনা। কিন্তু পাঞ্জাবে দাঁড়িয়ে গুরু গ্রন্থসাহেবকে অশ্রদ্ধা করার মতো অন্যায় পাঞ্জাবিরা সহ্য করবেন না। কারণ পাঞ্জাবিরা সাম্প্রদায়িক নন। তাঁরা শান্তিতে থাকতে চান। ধর্ম বা রাজনৈতিক তাস খেলতে পছন্দ করে এমন কোনও ব্যক্তিকে পাঞ্জাব পছন্দ করে না। পাঞ্জাবে হাজার হাজার ফৌজির বাস। কিন্তু বিজেপি–র ক’‌জন ’‌৬৫–তে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?‌ নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের বিজেপি–প্রার্থী অভিনেতা সানি দেওলকেও বিঁধতে ছাড়েননি। বলেছিলেন, সানি  ফিল্মি ফৌজি। আর আমি বাস্তবের ফৌজি। তাঁর এইসব মন্তব্যও ব্যাপক প্রভাব ফেলে রাজ্যের জনমানসে। 
প্রায়শই অমরিন্দার প্রধানমন্ত্রীকে ‘‌অতি আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি’‌ হিসেবে সম্বোধন করে মোদির বালাকোট হামলার সঙ্গে ১৯৭১–এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা ও অবদানের কুশলী তুলনা চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বালাকোট হামলার যা কিছু ঝুঁকি সবটাই সেনাবাহিনী নিয়েছে। মোদি কেবল ঠান্ডা ঘরে বসে আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত। তাহলে এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে মোদির কৃতিত্ব কতটা?‌ যে কোনও প্রধানমন্ত্রীই এমনটা করতে পারেন। এই ধরনের বক্তব্য ভোটবাক্সে অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ১৯৮৪–তে অপারেশন ব্লুস্টার এবং কংগ্রেস নেতা স্যাম পিত্রোদার মন্তব্যের প্রতিবাদে দল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অমরেন্দ্র সিং। ফের কংগ্রেসে যোগ দেন ১৯৯৭–তে। পরবর্তীকালে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন ১৯৮৪–র দাঙ্গা ‘‌জাতীয় দুঃখ’‌। লজ্জাজনক এবং অমার্জনীয়। পিত্রোদা বা অন্য কারও ঘৃণ্য মন্তব্যে সেই ট্র‌্যাজেডি ধুয়ে যাবে না। রাহুল গান্ধী এই দাঙ্গায় দোষীদের যোগ্য শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি যদি মনে করেন যে, পিত্রোদার মন্তব্য নির্বাচনী ইস্যু করে পাঞ্জাববাসীর কষ্টে আরও বেশি করে আঘাত হানবেন তাহলে তিনি ভুল করছেন। ২০১৪–র নির্বাচনেও এভাবেই জনগণের মনে প্রভাব বিস্তার করে বিজেপি–র বর্ষীয়ান নেতা অরুণ জেটলিকে প্রায় ১ লক্ষের বেশি ভোটে পর্যুদস্ত করেছিলেন অমরিন্দর সিং। ‌‌

অমরিন্দর সিং

জনপ্রিয়

Back To Top