আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের লাদাখ সফর হঠাৎ বাতিল হয়েছিল। তার কারণ বোঝা গেল শুক্রবার সকালেই। লাদাখে উড়ে গেলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেচারা রাজনাথ, একটি সংক্ষিপ্ত টুইটে মোদির প্রশংসা করেছেন। এদিন মোদির সঙ্গে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণে। না, চীনের নাম নেননি নমো। গলা চড়িয়ে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের দিন শেষ। এখন উন্নয়নের যুগ। ইতিহাস সাক্ষী, আধিপত্যবাদীরা হয় হেরেছে, নয়তো পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদিন লে সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ‘সেনার হাতে দেশের সীমান্ত সর্বদা নিরাপদ। প্রধানমন্ত্রী লাদাখে গিয়ে সেনাদের সঙ্গে কথা বলায় সেনাবাহিনীর মনোবল বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করছি ও তঁাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ তবে মোদির সফর নিয়ে অন্য সুর চীনের। এ বিষয়ে চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিঝান এদিন বলেন, ‘সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ রক্ষা এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত ও চীন। এই সময়ে কোনও পক্ষেরই এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয় যাতে উত্তেজনা বাড়ে।’ ভারতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং–‌ও এদিন জানান, পড়শি ১৪টি দেশের মধ্যে ১২টির সঙ্গেই চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সহমত ও সহযোগিতার ভিত্তিতে স্থল–‌সীমান্ত চিহ্নিত করেছে। তাই চীনকে আধিপত্যবাদী আখ্যা দেওয়াটা ভিত্তিহীন।
ওদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ফৌজিরা এদিন ‘‌ভারতমাতা কি জয়’‌ এবং ‘‌বন্দে মাতরম্‌’‌ ধ্বনি দিয়েছেন। প্রাক্তন ফৌজিরা কিন্তু বলছেন, তঁারা ‘‌জয় হিন্দ’‌ ধ্বনি তুলতেই অভ্যস্ত ছিলেন। এদিন লাদাখে সেনাবাহিনীকে উজ্জীবিত করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে তিনি বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণ যেমন বঁাশি বাজান, তেমনই সুদর্শন চক্র চালাতেও পারেন।
লে, লাদাখ থেকে সিয়াচেন ও কার্গিল এবং গালোয়ানের বরফগলা জল, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি চূড়া ভারতীয় সেনাদের শৌর্যের সাক্ষী। সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ আমরা তিনগুণ বাড়িয়েছি। যে–সব মহিলা সৈনিক আমার সামনে দঁাড়িয়ে রয়েছেন, আমি তঁাদের লক্ষ করছি। সীমান্তের যুদ্ধক্ষেত্রে এমন দৃশ্য উজ্জীবিত করে। ১৪ নম্বর বাহিনীর সাহসিকতার কথা সবাই বলবে। দেশের সব পরিবারে আপনাদের সাহস ও শৌর্যের কাহিনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ভারতমাতার শত্রুরা আপনাদের ক্রোধের প্রকাশ দেখেছে। দুর্বলেরা নয়, সাহসীরাই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আপনারা এবং আপনাদের সঙ্গীরা যে–সাহস দেখিয়েছেন, তােত গোটা বিশ্বের কাছে ভারতের শক্তির বার্তা পৌঁছে গেছে। যে উচ্চতায় আপনারা দঁাড়িয়ে, আপনাদের সাহস তার চেয়েও উঁচুতে। যঁারা গালোয়ান উপত্যকায় শহিদ হয়েছেন, সেই সেনাদের সাহসকে আমি আবারও সম্মান জানাচ্ছি। আপনাদের ত্যাগ, বলিদান ও পুরুষার্থের কীর্তি আত্মনির্ভর ভারতের সঙ্কল্পকে আরও শক্তিশালী করছে।’
এদিন সকাল সাড়ে ন’‌টা নগাদ বায়ুসেনার বিশেষ কপ্টারে লে–র কুশক বাকুলা রিমপোচে বিমানবন্দরে পৌঁছোন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে চান ১৪ নম্বর বাহিনীর সদর দপ্তর নিমুতে। নিমুর উচ্চতা ১১ হাজার ফুট। সিন্ধু নদের তীরে জঁাকসার পর্বতশ্রেণি দিয়ে ঘেরা এই এলাকা যথেষ্ট দুর্গম। তবে অনেকেই টুইটারে রসিকতা করে বলেছেন, ‘‌থ্রি ইডিয়ট্‌স’‌ ছবিতে আমির খান বরং গালোয়ানের অনেক কাছাকাছি গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে নর্দার্ন আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াই কে যোশির সামনে প্রধানমন্ত্রীকে এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও ভারত–‌তিব্বত সীমান্ত বাহিনীর অফিসারেরা। এর পর ক্যামোফ্লেজ শিবিরে বসে কয়েকশো সেনার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন মোদি। হাসপাতালে গিয়েও মাইক–‌হাতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন মোদির কপ্টার লে–‌তে না–‌পৌঁছোনো পর্যন্ত তঁার সফরের খবর গোপন রাখা হয়েছিল। দিল্লি থেকে এই সফর নির্বিঘ্নে সফল করার দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সেনা অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোদি হাসপাতালে গালোয়ান সঙ্ঘর্ষে আহত সেনাদের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেন। করোনা, অর্থনীতি ও গালোয়ান— সঙ্কটের এই ত্রিশূলের মুখে সম্প্রতি প্রশ্নের মুখে পড়েছে মোদির ভাবমূর্তি।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top