রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ২১ অক্টোবর- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য পেঁয়াজ ও আদা–‌বিহীন রান্না করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। মোদি জমানায় দ্রব্যমূল্যের আকাশছেঁায়া বৃদ্ধিকে এই ভাবেই কটাক্ষ করেছেন তিনি। 
সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির এক পঁাচতারা হোটেলে প্রকাশিত হল তঁার বই ‘‌গুড ইকনমিক্‌স ফর হার্ড টাইম্‌স’‌। একটি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত ‘‌অফ দ্য কাট’‌ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। অভিজিতের বইয়ের প্রশংসায় তঁার লেখা বইটিকে ‘‌মহাসাগর’‌ আখ্যা দেন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক–‌‌সহ শীর্ষ কর্তারা। কাল, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন অভিজিৎ। দুপুরে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গের ‘‌লিভার ফাউন্ডেশন’‌–‌‌এর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। দুপুর দেড়টায় সাংবাদিক সম্মেলন রয়েছে তঁার। ‌
‌এদিন উপস্থিত শ্রোতাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন অভিজিৎ। অর্থনীতি বিষয়ক আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তঁার মতে, ‘‌অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বৈষম্যের মধ্যে কোনও অনুবন্ধ নেই।’‌ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‌কর্পোরেট জগতের ওপর আমার চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাস রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’‌ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতারা নোবেলজয়ী বাঙালিকে ‘‌বামপন্থী ও পক্ষপাতদুষ্ট’‌ বলে কটাক্ষ করে আসছেন। এদিন আবারও তার জবাব দিয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, ‘‌নিশ্চিত ভাবে আমি ওয়েলফেয়ার লেফ্‌ট’‌।‌ অর্থাৎ তিনি কল্যাণরাষ্ট্রে বিশ্বাসী বামপন্থী। বলেছেন, বাম এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যাকে বাদ দেওয়া যায় না। আরও বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান সরকার ছাড়া অন্য কারও মনে ‌দক্ষিণ ও বাম নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’‌ সেই সঙ্গেই বলেছেন, ভিন্ন মতের অধিকার রক্ষার জন্য সকলেরই সক্রিয় থাকা উচিত।
‌পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি প্রকল্পের আরও বেশি ব্যবহারিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলতে পঞ্চায়েতগুলিকে আরও বেশি মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাঙালি অর্থনীতিবিদ। একজন পেশাদার অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে যে–‌কোনও সরকারের সমর্থক হিসেবে দেখতে চান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‌সরকারকে সব সময় কঠিন কাজ করে দেখাতে হয়। বাজার যা করতে পারে না, সরকারকে তা–‌ই করতে হয়।’‌ এদিনের আলোচনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির দুর্দশার প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে অভিজিতের মন্তব্য, ‌রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি যখন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের লক্ষ্য থাকে ঋণগ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানো। কাজেই এই প্রয়াস কখনও শেষ হয় না।
কৃষিঋণ মকুবের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটার পেছনে সরকারের সুপরিকল্পিত বন্দোবস্ত না থাকাকেই দায়ী করেছেন অভিজিৎ। অন্য এক প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেছেন, ‘অপ্রত্যক্ষ করের তুলনায় জনকল্যাণে প্রত্যক্ষ করের কোনও বিকল্প নেই।’‌ 
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘‌আয়ুষ্মান ভারত’‌ ‌প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ। যদিও প্রকল্পটির প্রশংসা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ চিকিৎসাজনিত ব্যয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেন। জমি–‌‌বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হন। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্প ফলপ্রসূ হবে। তবে প্রকল্পে বেশ কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।‌‌

দিল্লিতে বিশিষ্টদের মুখোমুখি। সোমবার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top