সংবাদ সংস্থা, চণ্ডীগড়, ৫ জুন- একেই বোধ হয় বলে ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না!‌ যখন দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা হল, তখন পরিযায়ী শ্রমিকদের দিকে তাকিয়েই দেখল না কেন্দ্র। এমনকী যে–‌যে রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন পরিযায়ীরা, তঁাদের দেখল না সেই সব রাজ্য সরকারও। গত দু’‌মাস কী অবর্ণনীয় দুঃখ–‌কষ্টই না ভোগ করেছেন পরিযায়ীরা!‌ বহু কষ্ট, লাঞ্ছনা ও প্রিয়জনের মৃত্যু সহ্য করে ফিরেছেন নিজেদের গ্রামে। আর এখন, যখন আনলকের পর দেখা দিেয়ছে শ্রমিক–‌সঙ্কট, তখন মনে পড়ছে পরিযায়ীদের। পাঞ্জাবের ধনী কৃষক আর কারখানা–‌মালিকেরা এরই মধ্যে ঘরে ফিরে–‌যাওয়া পরিযায়ীদের ফিরিেয় আনতে একেবারে উঠেপড়ে লেগেছেন।
ধনী কৃষকের রাজ্য পাঞ্জাবে এখন চাষের ভরা মরশুম। ১০ জুন থেেক শুরু হবে বীজ বপন। অথচ শ্রমিক নেই। ফলে মজুরি দ্বিগুণ। একর–‌পিছু ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। কারখানাগুলোও পুরোদমে কাজ করতে পারছে না। কারণ গতরে–‌খাটা শ্রমিক নেই। অতএব ডেকে পাঠাও পরিয়ায়ীদের। তঁাদের অ্যাডভান্স দেওয়া হবে, বাড়তি মজুরি দেওয়া হবে, দেওয়া হবে একেবারে কনফার্মড ট্রেন টিকিট— এমন সব লোভনীয় প্রস্তাব যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে। পৌঁছে যাচ্ছে আড়কাঠিরা। পাঞ্জাবের শিল্পমন্ত্রী সুন্দরশ্যাম অরোরা তো চিঠিই লিখে ফেলেছেন কেন্দ্রকে। তঁার আর্জি, ফিরতি শ্রমিক স্পেশ্যাল চালাক রেল। সম্পন্ন কৃষক সর্বজিৎ সিং লাড্ডির কথায়, ‘অমৃতসর জেলায় শ্রমিকই মিলছে না। ভেবেছিলাম পরিযায়ীদের ফেরাতে বিহার, উত্তরপ্রদেশে বাস পাঠাব। তা এখন ট্রেন চালু হয়ে গেছে। শ্রমিকদের জন্য স্লিপার ক্লাস ট্রেনের টিকিট কেটে দিচ্ছি। ১৪ তারিখ থেকে ওরা ফিরবে।’ বারনালা জেলার চিনিওয়াল গ্রামের জগশির সিং জানিেয়ছেন, শ্রমিকদের ফেরাতে তিনটি বাস ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখনও করোনা বাড়ছে। তাই মাঠেই ওদের থাকার ব্যবস্থা হবে। শুধু বাস বা ট্রেনের টিকিট নয়, সরাসরি পরিযায়ীদের অ্যাকাউন্টে আগাম ঢুকে যাচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নগদ। দু’‌মাস আগে এই টাকাটা কেউ দেয়নি। বার বার বলা সত্ত্বেও দেয়নি কেন্দ্র। তবে এবার শক্ত হয়েছেন পরিযায়ীরা। বলছেন, ফসল বোনা হয়ে গেলে নিরাপদে ফেরানোর গ্যারান্টি দিতে হবে। তবেই যাবেন তঁারা। ওদিকে পাঞ্জাবের ইউনাইটেড সাইকেল অ্যান্ড পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিএস চাওলা জানিয়েছেন, অনেক শিল্পপতি পরিযায়ীদের গ্রামে লোক পাঠিয়ে জানিয়েছেন, কাজের জায়গায় ফেরার টিকিট তঁারাই কেটে দেবেন। এমনকী ভিন্‌ রাজ্য থেকে পরিযায়ীদের ফেরাতে পাঞ্জাব সরকারের হস্তক্ষেপেও চেয়েছেন শিল্প–‌মালিকেরা। বাইরে থেকে লোক আনার ঝুঁকি কমাতে এবং শ্রমিক–‌সঙ্কট মেটাতে এবার পাঞ্জাবের গ্রামের বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও ভাবছেন চাওলারা। প্রশ্ন হচ্ছে, পরিযায়ী এবং নিজেদের রাজ্যের বেকারদের জন্য পাঞ্জাবের ধনী কৃষক ও শিল্পপতিদের এমন উদ্বেগ এত দিন কোথায় ছিল?

জনপ্রিয়

Back To Top