আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার এবং সহজ লক্ষ্য। এই অভিযোগ করেছেন পলাতক হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি। তাঁর দাবি, আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত অন্যান্য বড় অভিযুক্তদের ব্রিটেন থেকে আনতে অক্ষম হওয়ায় তাঁর পিছনে লেগেছে ভারতীয় সরকার। রবিবার অ্যান্টিগা থেকে ফোনের সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ করেছেন চোকসি। ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম জনসমক্ষে কথা বললেন চোকসি। তিনি এদিন আরও বলেছেন, তাঁর বিশ্বাস তিনি এখন যে দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, সেই দেশের সরকার তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী, তাদের শরণার্থীদের রক্ষা করবে। চোকসির অভিযোগ, ভারতে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় প্রচুর গাফিলতি এবং ত্রুটি আছে। ব্যাঙ্কিং নীতি মেনে কাজ না করার জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন অনেক ব্যাঙ্ককর্মী। ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের দোষত্রুটি দেখছে না। অথচ তাঁকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। পিএনবি–তে যে ১৩,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর এবং তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদির বিরুদ্ধে, সেই প্রশ্নের জবাবে চোকসির সাফ বক্তব্য, তিনি এব্যাপারে কিছু জানেন না। কারণ, তাঁর অফিসে এই কাজ অন্য কর্মীরা দেখেন। তিনি শুধু জানেন তাঁদের সঙ্গে পিএনবি–র প্রায় দু’‌দশকের সম্পর্ক। তাঁর ব্র‌্যান্ড ভ্যালু এখন তলানিতে। তাঁর সব কিছু বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে ইডি। ব্যাঙ্ক যদি মনে করে সেগুলি বেচে দেনা মেটাবে তাহলে সেই সম্পত্তি ইডি–র কাছ থেকে নিতে হবে। তিনি বাধা দেবেন না। 
চোকসি টেলিফোনের সাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, অন্যান্য অভিযুক্তদের থেকে তাঁর প্রতি আলাদা ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁকে তাঁর আইনজীবীর পরামর্শ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর পরিচিতদের। বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব নিয়েছেন শুধুই নিজের ব্যবসায়িক ক্ষেত্র বৃদ্ধির লক্ষ্যে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি জনসমক্ষে টিভির সামনে সম্প্রচারিত হয়েছে। তাঁর মামলা নিয়ে টিভিতে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। যেন সংবাদমাধ্যমেই তাঁর বিচারপর্ব চলছে। এই সব দেখে ভারতীয় বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাঁর আর কোনও শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস নেই। এমনকি গত কয়েকমাসে তাঁর মামলা যেদুকে ঘুরেছে, তাতে তিনি যদি দেশে ফিরেও যান তাঁকে হয় রাস্তায় নয়ত জেলেই জনরোষের শিকার হয়ে মরতে হবে।
তাই আপাতত ভারতে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর বলেই ইঙ্গিত দিয়ে চোকসি বলেন, তিনি অ্যান্টিগায় কোনও বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন না। অ্যান্টিগা সরকার ইংরেজদের সাধারণ আইন মেনে চলে। যেখানে মানবাধিকারের অনেক সম্মান করা হয়। তাই বিজয় মালিয়া যেমন ইংল্যান্ডে আইনি সুবিধা পেয়েছেন, তেমনই তিনিও অ্যান্টিগায় পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন পিএনবি আর্থিক দূর্নীতিকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মেহুল চোকসি।                ‌

জনপ্রিয়

Back To Top