আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর- ‌বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে এককাট্টা হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সোমবার কংগ্রেসের ডাকা ভারত বন‍‌্ধের দিন দিল্লির রামলীলা ময়দানের বিক্ষোভ সমাবেশে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মনমোহন বলেছেন, ‘‌সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে সরকার।’‌ এর পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সমস্ত বিরোধী দলকে এক হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‌চার বছরের শাসনে আমজনতার জন্য কোনও কিছু করেনি মোদি সরকার। বরং, একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্তে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। জনবিরোধী মোদি সরকারের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।’‌ মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা নিয়েও এদিন সরব হন মনমোহন। তাঁর কথায়, ‘‌কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির ফলে কৃষক, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ আজ বিপদের সম্মুখীন।’‌
পেট্রোল–‌‌ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কংগ্রেসের ডাকা ভারত বন‍‌্ধে মিশ্র প্রভাব পড়েছে রাজধানী দিল্লিতে। তবে ভাল সাড়া পড়ে কর্ণাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র ও বিহারে। কর্ণাটক ও কেরলের শাসক–জোট বন্‌ধে যোগ দিয়েছিল। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে সোমবার ভারত বন‌্‌ধের ডাক দেয় কংগ্রেস। ওই একই ইস্যুতে বামেরাও দেশ জুড়ে হরতালের ডাক দেয়। বন‌্‌ধের সমর্থনে এদিন প্রথমে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে যান রাহুল গান্ধী–‌সহ কংগ্রেস নেতারা। পরে মিছিল করে রামলীলা ময়দানে প্রতিবাদ সভায় যান তাঁরা। সোনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং, গুলাম নবি আজাদ–‌সহ দলের বর্ষীয়ান নেতাদের সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন ২০টি বিরোধী দলের নেতা–‌নেত্রীরা। ছিলেন এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার, বিক্ষুব্ধ জেডিইউ নেতা শারদ যাদব। তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায় ও আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিংও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সমাবেশে থাকলেও তৃণমূল ও আপ এই বন্‌ধে অংশ নেয়নি। 
এদিন রামলীলা ময়দানের সভায় কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বলেন, ‘চার বছর আগে মোদি সরকারকে বিশ্বাস করেছিল দেশবাসী। কিন্তু এখন সেই ভুল ভেঙেছে। নরেন্দ্র মোদি এখন চুপ। তেলের দাম বৃদ্ধি হোক, বা কৃষকদের দুরবস্থা অথবা নারী নির্যাতন, তিনি কোনও ব্যাপারে কিছুই বলেন না। চার বছরে মোদি সরকার মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি ছাড়া আর কিছু করেনি। দেশে কালো টাকা উদ্ধারে নোটবন্দি করেছেন। কিন্তু, নোটবন্দিতে কালো টাকা উদ্ধার দূরে থাক, মুখ পুড়েছে সরকারের। অকারণ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আমজনতা।’ তাঁর অভিযোগ, ‘‌বিজেপি–‌র সৌজন্যে গোটা দেশে এখন ঘৃণার বাতাবরণ।’‌
এদিকে বামেদের ডাকা সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ দেখান সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা–‌সহ বাম নেতৃত্ব। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আম আদমি পার্টির নেত্রী আতিশি। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন বাম কর্মী–‌সমর্থকেরা। বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এদিন বলেন, ‘‌বিরোধী দলের বন্‌ধ ডাকার অধিকার আছে। তাই বলে বন্‌ধের নামে রাজনৈতিক হিংসা কখনও কাম্য নয়। ভারত বন্‌ধের নামে হিংসা, তাণ্ডব বন্ধ করতে হবে।’‌ তাঁর কথায়, বিহারের জাহানাবাদে কংগ্রেসের ডাকা বন্‌ধের জন্য এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য মৃত্যুর জন্য বন্‌ধকে দায়ী করেনি। তবে গুজরাটের ভারুচ, বিহারের পাটনা–‌সহ বিভিন্ন জায়গা এবং মহারাষ্ট্রের পুনেতে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এই বন্‌ধ সমর্থন করেননি। তবে রাজ্যের অনেক জায়গায় আজ স্কুল বন্ধ ছিল।

জ্বালানি জুড়ল বিরোধীদের। রাহুল, মনমোহন ও কংগ্রেসের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে শারদ পাওয়ার, শারদ যাদব, সুখেন্দুেশখর রায়। দিল্লিতে, সোমবার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top