‌সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ ‘‌এক দেশ, এক ভোট’‌ নিয়ে বৈঠকের কোনও অর্থ হয় না বলে কেন্দ্রকে জানিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাই কাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠকে যাবেন না তিনি। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেন্দ্র বরং বিষয়টি নিয়ে প্রথমে একটি শ্বেতপত্র বার করুক। তা নিয়ে সব দলের মতামত নেওয়া হোক। তারপর বৈঠক ডাকা হলে তা অর্থবহ হবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।
লোকসভা এবং রাজ্যসভায় যাদের সাংসদ আছে সেই সমস্ত দলের সভাপতিদের বুধবার বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘‌এক দেশ, এক ভোট’‌ ছাড়াও চলতি বছর মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন, ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পালন বিষয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন, ‘‌১৯ জুন দুপুর ৩টে নাগাদ দিল্লিতে রাজনৈতিক দলের সভাপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৪ তারিখে সেই আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি আমি। আমি বৈঠকের আলোচ্যসূচি খতিয়ে দেখেছি। এক দেশ এক নির্বাচন ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। এত অল্প সময়ের মধ্যে এ সম্পর্কে যথাযথ মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সর্বোপরি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে সরকার বরং একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক। তাতে মতামত দেওয়ার জন্য সব দলকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হোক। এটা করলে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিতে পারব।’‌ 
উন্নয়নকামী জেলাগুলির উন্নয়নের প্রসঙ্গও রয়েছে চিঠিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘‌উন্নয়নকামী জেলা কর্মসূচি’‌ (‌অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম)‌–এর মাধ্যমে কিছু জেলার দ্রুত উন্নয়ন চান। এই প্রসঙ্গে মমতা লিখেছেন, ‘‌১৫ জুন নীতি আয়োগের বৈঠক হয়েছে। উন্নয়নকামী জেলাগুলির উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমরা সেই বৈঠকে জানিয়েছি। আমরা কয়েকটি জেলাকে উন্নয়নকামী জেলা হিসেবে বাছাই করার পক্ষপাতী নই। এতে রাজ্যের সব জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত হয় না। আঞ্চলিক ভারসাম্যহীনতা রুখতে আমাদের রাজ্য সমানভাবে সব জেলার সামাজিক এবং আর্থিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’‌ 
এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ‘‌আমরা স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষপূর্তি এবং মহাত্মা গান্ধীর দেড়শোতম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করব। সংসদের কাজকর্মের উন্নতি কোন পথে হবে, তা পুরোপুরি সংসদ সংক্রান্ত বিষয়। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক প্রয়োজনে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তাঁরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা মেনে নেব।‌‌‌’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top