বিচারপতি চেলমেশ্বর
প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর পরে বিচারপতি যষ্টি চেলমেশ্বরই সুপ্রিম কোর্টের সব থেকে সিনিয়র বিচারপতি। কিন্তু প্রধান বিচারপতির পদে বসা তাঁর হবে না। এ বছর জুনে অবসর নিচ্ছেন তিনি। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শীর্ষ আদালতে পদোন্নতি পেতে বিলম্ব হয়েছে তাঁর। ১৯৯৭ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন আইনজীবী চেলমেশ্বর। ২০০৭ সালে গুয়াহাটি হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি, পরে কেরল হাইকোর্টে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন। সেই থেকেই শীর্ষ আদালতে তিনি যেন কিছুটা একা, বেসুরো। ভিন্ন মতের জন্য বিশেষভাবে খবর হয়ে ওঠেন বিচারপতি নিয়োগের কলেজিয়াম পদ্ধতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠার জন্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিচারপতি নিয়োগের জন্য বিচারপতিদের কলেজিয়াম— এই ব্যবস্থা অত্যন্ত অস্বচ্ছ। গোপনে কী শলাপরামর্শ চলে, বাইরে কেউ জানে না। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েই বিচারপতি নিয়োগে হাত বাড়াতে চাইছিল সরকার। করা হয়েছিল জাতীয় বিচারবিভাগীয় নিয়োগ কমিশন আইন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, সব থেকে সিনিয়র দুই বিচারপতি, কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী এবং দু’‌জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত কমিশনই বিচারপতিদের নিয়োগ করবে, এরকমই বলা হয়েছিল বিলে। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনটি খারিজ করে দেয়। একা চেলমেশ্বরই নিয়োগ কমিশনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। সিনিয়র বিচারপতি হিসেবে তিনি কলেজিয়ামের সদস্য ছিলেন। অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা নিয়ে মুখ খুলে কলেজিয়ামের বৈঠকে যাওয়া তিনি বন্ধ করে দেন। তাঁর লড়াইয়ে একটি কাজ হয়েছিল। ঠিক হয়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। 
যে–‌সব গুরুত্বপূর্ণ রায়ের শরিক ছিলেন চেলমেশ্বর, তার মধ্যে আছে তথ্য–‌প্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারা বাতিল করে দেওয়া। বাক্‌–‌স্বাধীনতার সুরক্ষায় চেলমেশ্বর এবং ফলি নরিম্যানের রায় ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। আধার মামলায় চেলমেশ্বর–‌সহ তিন বিচারপতির বেঞ্চের নিদান ছিল, স্রেফ আধার না থাকার কারণে কাউকে ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আধার–‌এর সূত্রে উঠে আসা গোপনীয়তার বিষয়টিতে ৯ সদস্যের বেঞ্চ পরে রায় দেয়, গোপনীয়তা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু হালে যে মামলাটি ঘিরে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর সঙ্গে বিচারপতি চেলমেশ্বরের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হল এমসিআই দুর্নীতির মামলা। আইনজীবী কামিনী জয়সোয়ালের আনা মামলাটি উঠেছিল বিচারপতি চেলমেশ্বরের বেঞ্চে। আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে এর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। যে বেঞ্চ মামলাটি দেখবে, তাতে যেন প্রধান বিচারপতি না থাকেন, কেননা তিনি আগে এই সংক্রান্ত মামলা দেখেছেন, এক্ষেত্রে স্বার্থের সঙ্ঘাত ঘটতে পারে। বিচারপতি চেলমেশ্বরের বেঞ্চ মামলাটি পাঠায় ৫ সদস্যের একটি বেঞ্চে। পরদিনই প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র অন্য একটি ৫ সদস্যের বেঞ্চ তৈরি করে চেলমেশ্বরের বেঞ্চের নির্দেশ বাতিল করে দেন। জানান, কোন বেঞ্চে কারা থাকবেন, কোন মামলা কোথায় যাবে, তা ঠিক করার মালিক প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির এই ‘‌রোস্টার’‌ করার ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েই আজ মুখ খুলেছেন চেলমেশ্বর–‌সহ ৪ বিচারপতি। এই মুহূর্তে এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বিচারপতি লোয়ার রহস্যময় মৃত্যু সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাটি।  
বিচারপতি মদন লোকুর
দিল্লি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন মদন ভীমরাও লোকুর। ১৯৯৯ সালে দিল্লি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন, পরে স্থায়ী বিচারপতি। ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন। বিচারপতি লোকুর এবং বিচারপতি ইউ ইউ ললিত ছিলেন একসময় সামাজিক ন্যায় সংক্রান্ত বেঞ্চের সদস্য। পরে এই বেঞ্চটি উঠে যায়। এমনিতে মৃদুভাষী, কিন্তু অনেক সময়ই দেখা গেছে, অকর্মা সরকারি আধিকারিকদের ভর্ৎসনায় তিনি তীক্ষ্ণ। 
বিচারপতি রঞ্জন গগৈ
দীপক মিশ্রর অবসরের পর তিনিই হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। এ বছরের অক্টোবরে। হবেন উত্তর–‌পূর্বাঞ্চল থেকে দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেশবচন্দ্র গগৈয়ের ছেলে রঞ্জন গগৈ। গুয়াহাটি হাইকোর্ট এবং পাঞ্জাব–‌হরিয়ানা হাইকোর্টে কাজ করেছেন। ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টে। সুস্থির, স্পষ্টভাষী বিচারপতি। এজলাসে আইনজীবীরা সিনিয়র না জুনিয়র তার তোয়াক্কা করেন না। আদালত অবমাননার মামলায় প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজুর ক্রুদ্ধ হুঙ্কারের মুখে স্থির, নির্বিকারভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের তিনি নির্দেশ দেন কাটজুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।  
বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ
এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিচারপতি। সংখ্যালঘু সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতে অনেক সময়ই দেখা যায় বিচারপতি জোসেফকে। নিষ্পত্তি করেন পরিবার আইন সংক্রান্ত মামলার। তিন তালাক মামলার বেঞ্চে ছিলেন। কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন, পরে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। ২০১৩ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে।

বিচারপতি চেলমেশ্বর। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top