আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: করোনাভাইরাস পরীক্ষায় ব্যবহার করা যাবে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত চিকিৎসা‌–যন্ত্র। বুধবার এ কথা জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (‌‌আইসিএমআর‌)‌। এখন পর্যন্ত দেশে ২৫ লক্ষের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১,০৮,১২১ জনের। 
গত ১০ এপ্রিল করোনা রোগী শনাক্ত করতে ‘‌ট্রুন্যাট’‌ পদ্ধতি চালু করার অনুমোদন দিয়েছিল আইসিএমআর। বলা হয়েছিল, এই পদ্ধতি শুধুমাত্র সম্ভাব্য আক্রান্তদের চিহ্নিত করবে। এখন সেই নির্দেশ সংশোধন করে তারা বলেছে, করোনা রোগী চিহ্নিত করতেও অব্যর্থ ট্রুন্যাট পদ্ধতি। কী এই পদ্ধতি?‌ কারও শরীরে করোনার উপসর্গ থাকলে প্রথমে ই–‌‌জিন পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে, তা এক বারেই নেগেটিভ ধরে নেওয়া হবে। আর যদি রিপোর্ট পজিটিভ হয়, তা হলে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও একবার পরীক্ষা করতে হবে। এই দ্বিতীয় ধাপকেই বলা হচ্ছে আরডিআরপি জিন পরীক্ষা। আইসিএমআর বলছে, কারও নমুনা পরীক্ষায় দ্বিতীয় বারও রিপোর্ট পজিটিভ এলে, নতুন করে আর আরডিআরপি পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বুধবার আইসিএমআর–‌‌এর তরফে রমন গঙ্গাখেডকর জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ২৫,১২,৩৮৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল এদিন দাবি করেছেন, গোটা বিশ্বে প্রতি লাখে করোনা রোগী ৬২‌.‌৩ জন। ভারতে প্রতি লাখে ৭‌.‌৯ জন। দেশে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ক্রমশ বাড়ছে। এখন সুস্থ হওয়ার হার ৩৯‌.‌৬ শতাংশ। যা আশাপ্রদ।
বুধবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ১,০৬,৭৫০। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৪০ জনের। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দঁাড়িয়েছে ৩,৩০৩। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দুশ্চিন্তার বিশেষ কারণ এখন মহারাষ্ট্র। সে–‌রাজ্যে হুহু করে বাড়ছে সংক্রমণের হার। দেশে করোনা সংক্রমণের তিন ভাগের এক ভাগই মহারাষ্ট্রে। সেখানে আক্রান্ত ৩৭,১৩৬ জন। মৃত ১,৩২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯,৬৩৯ জন। গুজরাটকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু। সে–‌রাজ্যে আক্রান্ত ১২,৪৪৮ জন। মৃত ৮৪ জন। গুজরাটে আক্রান্ত ১২,১৪০ জন। মৃত্যুর হার অনেক বেশি প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্যেই। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৭১৯ জনের। রাজধানী দিল্লিতে আক্রান্ত ১০,৫৫৪ জন। মৃত ১৬৮ জন। মধ্যপ্রদেশে আক্রান্ত ৫,৪৬৫। মৃত ২৫৮ জন। রাজস্থানে আক্রান্ত ৫,৮৪৫। মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জনের। উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত ৪,৯২৬। মৃত ১২৩ জন। অন্ধ্রপ্রদেশে আক্রান্ত ২৫৩২ জন, বিহারে আক্রান্ত ১৪৯৮ জন, কর্ণাটকে ১৩৯৭ জন, পাঞ্জাবে ২,০০২ জন। অন্য রকম দৃশ্য কেরলে। সে–‌রাজ্যে আক্রান্ত ৬৪২ জনের মধ্যে ৪৯৭ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। গোটা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫,৬১১ জন।

জনপ্রিয়

Back To Top