রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ১২ আগস্ট- জম্মু–‌কাশ্মীরে জোর–জবরদস্তি করে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ আরও বেশি করে মাথাচাড়া দেবে উপত্যকায়। আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজপেয়ী জমানার র–প্রধান এ এস দুলাত। এদিকে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেছেন, ‘‌মুসলিম সংখ্যাধিক্যের কারণেই ‌জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়েছে। হিন্দুপ্রধান রাজ্য হলে এমনটা করা হত না। এর জন্য পরে আপশোস করবেন রূপরেখার কারিগররা।’‌ সেই নিয়ে ঝড় রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতারা বলছেন, ‘‌পাকিস্তানের সুর কংগ্রেস নেতাদের গলায়।’ 
রবিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেছেন, ‘‌জম্মু–কাশ্মীরে যদি হিন্দুদের সংখ্যা বেশি হত, তাহলে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা ছিনিয়ে নিত না গেরুয়া শিবির।’ তাঁর অভিযোগ, পেশিশক্তি ব্যবহার করে ৩৭০ ধারা তোলা হয়েছে। জম্মু–‌কাশ্মীরে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সে–সব তুলে ধরছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম‌ মুখে কুলুপ এঁটেছে। সরকার যা দাবি করছে তা মিথ্যা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দেখাচ্ছে, অশান্ত কাশ্মীর। সৌরা এলাকায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে পুলিশ।
তিনি প্রশ্ন করেছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে না বলেই সেখানকার অবস্থা স্থিতিশীল?‌’‌ রাজ্যসভায় বিরোধীদের অনেককেই কংগ্রেস পাশে পায়নি, এই নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিদম্বরম। 
এদিকে, ৩৭০ ধারা সরিয়ে দিয়ে উপত্যকায় শান্তি ফেরানো সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন বাজপেয়ী জমানার র–প্রধান এ এস দুলাত। তাঁর মতে, এর ফলে সেখানে সন্ত্রাসবাদ আরও মাথাচাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, ‘‌কাশ্মীরিরা চাপের কাছে মাথা নত করেন ঠিকই, কিন্তু তা সাময়িক। পরে আবার মাথা তুলে দাঁড়ান। ইতিহাস তা–ই বলছে।’‌ চিদম্বরমের সুরে সুর মিলিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‌আমিও মনে করি, এই সিদ্ধান্তের জন্য পরে আপশোস করতে হবে। কাশ্মীরকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। সন্ত্রাস ও নিরাপত্তার বিষয়গুলি জানি। আশঙ্কা করছি, এর ফলে সন্ত্রাসবাদ বাড়বে। এক্ষুনি না হলেও ভবিষ্যতে।’‌
ওদিকে, চিদম্বরমের মন্তব্যের নিন্দায় সরব হয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেছেন, ‘‌তোষণের মনোভাব এখনও রয়েছে কংগ্রেসের মধ্যে। চিদম্বরমের মন্তব্য তারই প্রমাণ। কেন্দ্রের পদক্ষেপে সেখানকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের মঙ্গল হবে।’‌ মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কথায়, ‘‌চিদম্বরমের মনোভাবের জন্য করুণা হচ্ছে। দেশকে হিন্দু–মুসলিমের চশমায় দেখছেন উনি। যে সম্প্রদায়ই হোক, বিজেপি সকলকে সমান নজরে দেখে।’‌‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌এর পর কংগ্রেস কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?‌’‌ মুখতার আব্বাস নাকভি চিদম্বরমের বক্তব্যকে ‘‌দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে‌ বলেছেন, ‘‌এ সব ওঁদের অপরিচ্ছন্ন মনের পরিচায়ক। এই ধরনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় পাকিস্তানের সঙ্গে এঁদের ‌‌কী সম্পর্ক। এই বিষয়টিতে সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর জন্য ওঁদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’‌ আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের কথায়, ‘‌দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলেছেন উনি। উসকানিমূলক মন্তব্য।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top