সংবাদ সংস্থা, দিল্লি, ১৩ আগস্ট- কাশ্মীরে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনই হস্তক্ষেপে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মতে, ‘‌জম্মু–কাশ্মীরের পরিস্থিতি ‌অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারকে আরও সময় দিতে হবে।’‌ উপত্যকায় অবিলম্বে কার্ফু তুলে, টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার আর্জি জানিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস কর্মী তেহশিন পুনাওয়ালা। দু’‌সপ্তাহ পর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন ফের শুনবে। 
সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উৎসবের সময়েও কথা বলতে পারেননি উপত্যকার মানুষজন। এই অভিযোগের জবাবে এদিন অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপাল বলেন, ‘‌আমাদের আগে আইন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৬–‌র জুলাইয়ে জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর উপত্যকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে তিন মাস সময় লেগেছিল। ‌গত সোমবার নিয়ন্ত্রণ জারির পর উপত্যকায় কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবু স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’‌ দুপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতিরা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একটাও মৃত্যু যাতে না হয় তা নিশ্চিত করা। মানুষের স্বাধীনতার অধিকার বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।’‌
এদিকে মঙ্গলবারই জম্মু–কাশ্মীর প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, লোকজনের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জারি করা নিয়ন্ত্রণ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ছাড়া হবে ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতিদের। 
এরই পাশাপাশি মুখ্যসচিব রোহিত কানসাল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে 
এবং জম্মু অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণমুক্ত। কানসাল বলেন, ‘‌বিভিন্ন জেলা ও লাদাখে স্বাধীনতা দিবসের মহড়া শেষ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ আরও শিথিল করা হবে বলে আমি আশাবাদী।’‌ জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখে স্বাধীনতা দিবসে ভালভাবেই উদযাপিত হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় প্রশাসন। 

স্তব্ধ শ্রীনগর। মঙ্গলবার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top