আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনি। কমলা হ্যারিস।  প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা হিসেবে। ঘরের মেয়ের এই মনোনয়নে দারুণ খুশি কমলার মামা, মাসিরা। ভারতে বসেই শোনালেন সেই গল্প। 
আক্ষেপ একটাই, ‘‌শ্যামলা থাকলে খুব খুশি হত। খুব গর্বিত হত।’‌ বললেন কমলার মামা গোপালান বালাচন্দ্রন। ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন দিল্লিতেই থাকেন। জানিয়ে দিলেন, ‘‌আশাই করেছিলাম যে রাজনীতিতে আমার ভাগ্নি অনেক দূর এগোবে। আমি নিজেও খুব উত্তেজিত।’‌
শেষবার ভাগ্নির সঙ্গে কথা হয়েছিল ডিসেম্বরে। আমেরিকায় নিজের মেয়ের কাছে গেছিলেন বালাচন্দ্রন। মেয়ে থাকেন ওয়াশিংটনে। এখন তাঁর মাধ্যমেই ভাগ্নির সব খবর পান ৮০ বছরের বালাচন্দ্রন। 
চেন্নাইয়ে থাকেন কমলার মাসি সরলা। তিনি জানালেন, ‘‌বেশ কয়েক দিন আগে কথা হয়েছে। এখন ও খুব ব্যস্ত। পরে আবার কথা বলব।’‌ ৭৬ বছরের সরলা জানালেন, বোনঝি তাঁকে ‘‌চিট্টি’‌ বলে ডাকে।  
মামা বালচন্দ্রনের এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে শ্যামলার সঙ্গে কাটানো ছোটবেলা। দিল্লি আর মুম্বইতে বড় হয়েছেন তিন ভাই বোন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্নাতকোত্তর পড়তে আমেরিকা পাড়ি দেন শ্যামলা। সে ১৯৫০–এর আশপাশে। বাবা পি ভি গোপালন ছিলেন আমলা। মেয়েকে কোনওদিন বাধা দেননি। শর্ত দিয়েছিলেন, প্রথম বছর থাকা, খাওয়ার খরচ দেবেন। তার পর নিজের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে। তাতেও পিছপা হননি সাহসী শ্যামলা। স্কলারশিপ পেয়ে আমেরিকায় পড়তে যান। 
ছ’‌য়ের দশকে আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৩ সালে জামাইকা থেকে আসা অর্থনীতির ছাত্র হ্যারিসকে বিয়ে করেন শ্যামলা। দুই মেয়ে হয়। ভারতীয় নাম রাখেন শ্যামলা। কমলা আর মায়া। কমলা নিজের আত্মজীবনীতে মায়ের নাগরিক অধিকার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার কথা লিখেছেন। লিখছেন, তিনি তখন খুব ছোট। স্ট্রলারে বসেই বাবা, মায়ের সঙ্গে গেছিলেন মিছিলে। ‘‌এখনও মনে আছে পায়ের সমুদ্র। সবাই চিৎকার করছে। উত্তেজনা।’‌ 
বালাচন্দ্রনের কথায়, শ্যামলা এই প্রতিবাদের শিক্ষা পেয়েছিলেন তাঁদের বাবা–মায়ের থেকেই। ‘‌বাবা শিখিয়েছিলেন কীভাবে নিজের নীতিকে আকড়ে বাঁচতে হয়। কারও ভাষা, খাবার, চেহারা, কোথা থেকে এসেছে— এসব দিয়ে বিচার করতে বারণ করেছিলেন আমাদের বাবা–মা। শ্যামলাও নিজের মেয়ে কমলা আর মায়াকে তাই শিখিয়ে গেছেন।’‌ 
বালাচন্দ্রন এও জানালেন, শ্যামলা জামাইকানকে বিয়ে করেছিলেন বলে বাবা আপত্তি জানাননি। কিন্তু টাকা না থাকায় কেউই সেই বিয়েতে যোগ দিতে আমেরিকা যেতে পারেননি। পরে স্বামীকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন শ্যামলা। মেয়ে কমলার যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন বিচ্ছেদ হয় স্বামী হ্যারিসের সঙ্গে। সেই থেকে একা দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন শ্যামলা। তাই মা–ই কমলার হিরো। নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন। অনেক কষ্ট করে দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন। প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ছোট বেলায় দুই–মেয়েকে নিয়ে তিন–চার বছর অন্তর ভারতে আসতেন শ্যামলা, সেকথাও জানালেন বালাচন্দ্রন। তার পর আসা কমেছে। ২০০৯ সালে মারা গেছেন শ্যামলা। ভাইয়ের আক্ষেপ, মেয়ের জীবনের এত বড় দিন দেখতে পেলেন না তিনি। 

জনপ্রিয়

Back To Top