‌সব্যসাচী সরকার- রাস্তার ওপরে কাকতাড়ুয়া দেখে সিআরপিএফের সন্দেহ হয়েছিল। খেতের বদলে রাস্তার পাশে জামা–‌প্যান্ট–‌টুপি পরা কাকতাড়ুয়া কেন?‌‌ পাশেই, ৬০০ মিটার দূরে সিআরপিএফ ক্যাম্প। জওয়ানরা তল্লাশিতে বের হচ্ছিলেন। সন্দেহ হতেই বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ডাকা হয়। দেখা যায়, কাকতাড়ুয়ার মাথায় ও পেটে দুটি ৫ কেজি ওজনের বোমা রয়েছে। এরপর কাকতাড়ুয়ার জামা পোশাক খুলে সেই বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। রক্ষা পায় জওয়ানদের প্রাণ।
সম্প্রতি এমনই কৌশল নিয়েছিল ছত্তিশগড়ের মাওবাদীরা। এবং এই মডেল ‘‌বুবিট্র‌্যাপ’‌ হিসেবে একেবারে নতুন। দান্তেওয়াড়ার কাছে কোন্ডসাবলি ক্যাম্পের কাছে ওই কাকতাড়ুয়া দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। পাশেই ছিল সিআরপিএফের ২৩১ ব্যাটেলিয়নের ক্যাম্প। ছত্তিশগড়ের কাঁকের, বিজাপুর, রাজনন্দনগাঁও, দান্তেওয়াড়ার গ্রামাঞ্চলে অরণ্যঘেরা অংশে লম্বা লম্বা লাল কাপড়ে শহিদ দিবস পালনের ডাক দিয়ে হোর্ডিং টাঙানো হয়েছিল। 
এই মুহূর্তে সিআরপিএফ বাহিনীর লাগাতার অভিযানের ফলে কিছুটা পিছু হঠে মাওবাদীরা রক্ষণাত্মক অবস্থায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কিন্তু যেহেতু বিভিন্ন অঞ্চলেই এরিয়া কমান্ডাররা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে থাকেন, তাই সব জায়গার পরিস্থিতি একসঙ্গে বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। এছাড়াও গেরিলা আক্রমণ লেগেই রয়েছে। চলতি বছরই বহু জায়গায় গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এবং হত্যা করে দেহ প্রকাশ্যে ফেলে গেছে মাওবাদীরা।
সিআরপিএফ সূত্রের খবর, বহুদিন আগে মৃতদেহের নীচে বোমা ও মাইন রেখে প্রকাশ্যেই অন্ত্যেষ্টির জন্য দেহ নিয়ে যেত। কারণ, পুলিশ প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দেওয়া। ৯–‌এর দশকের শেষাশেষি অন্ধ্রের ধাঁচে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গুপ্তচর হিসেবে কাজে লাগিয়ে গ্রামে পুলিশি গতিবিধির নজরদারি চালাত। ২০০৬ থেকে ২০১১ বিভিন্ন সময়ে রণকৌশল বদল হয়েছে। পরে পিএলজিএ (‌পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)‌ বাহিনী অতর্কিতে আক্রমণ চালানোর কৌশল নেয়। সম্প্রতি মাওবাদীদের শীর্ষ নেতৃত্বের বদল হয়েছে। বাসবরাজ দায়িত্বে এসেছেন।
সিআরপিএফ বলছে, বিভিন্ন অঞ্চলে এখন আর মাটির নীচে বোমা পুঁতে রাখার পথে না গিয়ে এই সমস্ত কৌশল নিচ্ছে মাওবাদীরা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top