সংবাদ সংস্থা, জেনেভা ও দিল্লি: করোনাভাইরাস মহামারির জেরে ভারতে কাজ হারাতে পারেন অসংগঠিত ক্ষেত্রের ৪০ কোটি শ্রমিক। তঁাদের আর্থিক অবস্থা আরও তলিয়ে যাবে। বুধবার এই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন আইএলও। সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা ঠেকাতে জারি–‌করা লকডাউনের প্রভাব পড়বে সমগ্র বিশ্বের ২৭০ কোটি শ্রমিকের ওপর। লকডাউনের কারণে অনেক দেশেই অসংগঠিত ক্ষেত্রের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের রুটিরুজি বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তবে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারত, ব্রাজিল ও নাইজেরিয়ায়। ভারতে ৯০ শতাংশ শ্রমিকই কাজ করেন অসংগঠিত ক্ষেত্রে। লকডাউনের পর তঁাদের বেশির ভাগই নিজেদের গ্রামে ফিরে গেছেন। এই সব শ্রমিকের স্বাস্থ্য–‌পরিষেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রায় কিছুই নেই। যদি সরকারের তরফে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তা হলে কাজ হারিয়ে এঁরা আরও বেশি গরিব হয়ে পড়বেন এবং পরে নতুন করে কাজ খুঁজে পাওয়া এঁদের পক্ষে কঠিন হবে।
আইএলও জানিয়েছে, এখন পুরো বা আংশিক লকডাউনের অধীনে রয়েছেন ২৭০ কোটি শ্রমিক। এবং এঁরা বিশ্বের মোট শ্রমিক–সংখ্যার ৮১%। ২০২০ সালের ১ এপ্রিলের হিসেব অনুযায়ী, লে–‌অফের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কাজ হারাবেন ২০ কোটি পুরো সময় কর্মরত শ্রমিক। বিশ্বের মোট কর্মরত শ্রমিকদের ৩৮ শতাংশ কিংবা ১২৫ কোটি কাজ করেন খুচরো ব্যবসা, আবাসন, খাদ্য পরিষেবা এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে। কোভিডের কারণে এ–‌সব শিল্পে উৎপাদন দারুণ ভাবে কমেছে এবং ছঁাটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। যে–‌সব দেশে বিশ্বের মোট শ্রমিকের ৮১ শতাংশ রয়েছেন, সেই সব দেশে হয় মালিকেরা সংস্থা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কিংবা তঁাদের বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কোভিড–‌১৯ সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের মোট ৩৩০ কোটি শ্রমিকের ওপর।
এরই পাশাপাশি বড় হয়ে উঠছে একটা মানবিক সমস্যা। চাকরি যে থাকছে না, সেটা কীভাবে জানানো হবে শ্রমিকদের। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের মতে, সংস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে ছঁাটাই করতে হবে। তবে কারও চাকরি আর নেই, মালিকের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত জানানোটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। তঁাদের পরামর্শ, লে–‌অফ করতে হলে মনে মনে প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হবে। কারণ, কবে থেকে ছঁাটাই, কত দিনের জন্য, এই পর্বে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে, শ্রমিকেরা এ–‌সব জানতে চাইবেন। এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সময়। এই সময়ে অনেক শ্রমিক যদি মালিকের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চান, সেটা হবে বাড়তি সমস্যা। তবে অমানবিক হওয়া চলবে না। কর্মচ্যুতির সিদ্ধান্ত জানানোর পর কর্মচারীদের বলতে হবে যে, দরকারে তঁাকে সব রকম সাহায্য ও পরামর্শ দেওয়া হবে।‌ ফাইল ছবি)

জনপ্রিয়

Back To Top