সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: জেএনইউয়ের সার্ভার রুমে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঐশী ঘোষ–সহ ৯ জন ছাত্রছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠাল দিল্লি পুলিশ। সোমবার থেকে ওই ৯ জনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে ছাত্রীদের ক্রাইম ব্রাঞ্চ অফিসে যেতে হবে না। মহিলা অফিসাররা ছাত্রীদের পছন্দমতো জায়গা ও সময়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে রয়েছে যোগেন্দ্র ভরদ্বাজ ও বিকাশ প্যাটেলের নামও। এঁরা দুজন এবিভিপি সদস্য হিসাবে পরিচিত। 
৫ জানুয়ারি রাতে সবরমতী হস্টেলে সশস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হস্টেল ফি বৃদ্ধি নিয়ে জেএনইউ ক্যাম্পাসে দু’‌পক্ষের সঙ্ঘর্ষ বাধে। পুলিশের অভিযোগ, ওইদিন পেরিয়ার হস্টেল ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেন ঐশী। তবে পুলিশ ঐশীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ হাজির করতে পারেনি। পুলিশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সঙ্ঘর্ষের ছবি, হস্টেল ওয়ার্ডেন, নিরাপত্তারক্ষী ও ছাত্রছাত্রীদের বিবৃতির ভিত্তিতে  ৪ ও ৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার রুমে সঙ্ঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে তারা। ওই ৯ জন ছাড়াও কয়েকজন ছাত্রকে এই সপ্তাহেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শুক্রবার দিল্লি পুলিশ সার্ভার রুমে সঙ্ঘর্ষের যে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে, সেগুলির মধ্যে বেশ কিছু ছবি অস্পষ্ট। ৫ তারিখ রাতে ৭০ থেকে ১০০ জনের বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জেএনইউ ক্যাম্পাসে ঢুকে অবাধে হামলা চালায়। আহত হন ঐশী ঘোষ–‌সহ ৩৪ জন। 
এদিকে সবরমতী হস্টেলে রাতের অন্ধকারে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ইউনিটি এগেনস্ট লেফট্‌ গোষ্ঠীর ৬০ জন সদস্যের মধ্যে ৫০ জনকেই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম। ইন্ডিয়া টুডে–‌র স্টিং অপারেশনে সামনে চলে আসে জেএনইউয়ে‌রই ছাত্র অক্ষত অবস্থি ও রোহিত শাহর ভূমিকা। ফরাসি ভাষার প্রথম বর্ষের ছাত্র অবস্থি এবিভিপি–‌র সদস্য। স্টিং অপারেশনে হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেন তিনি। আরেক ছাত্র রোহিত শাহও স্বীকার করেন যে জেএনইউয়ে‌র ২০ জন এবিভিপি সদস্য সেদিনের হামলায় জড়িত ছিল। রোহিত ও অবস্থিকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। যদিও যেতে অস্বীকার করেছে অবস্থি। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সমস্যা হচ্ছে। 
এদিকে জেএনইউ ইস্যুতে দীপিকা পাড়ুকোনের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে শিবসেনা। এদিন শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, অভিনেত্রী এবং তাঁর ছবিকে বয়কটের যে ডাক দেওয়া হয়েছে তা ভুল। এই দেশকে তালিবানি কায়দায় শাসন করা যাবে না। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top