আজকালের প্রতিবেদন
নতুন কীটনাশক বিলে যে বিষয়গুলি রয়েছে তাতে ধাক্কা খাবে ফসল উৎপাদন। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকেরা। বিঘ্নিত হতে পারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা। অসুবিধায় পড়বেন কীটনাশক উৎপাদনকারীরাও। ‘‌পেস্টিসাইডস ম্যানেজমেন্ট বিল (পিএমবি) ২০২০’‌ নিয়ে আপত্তি তুলে এ কথা জানিয়েছে ক্রপ কেয়ার ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (সিসিএফআই)। চূড়ান্ত ছাড়পত্রের আগে বিলটির আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা। দাবি করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের। রাজ্যসভায় বিলটি পেশ হয়েছে। লোকসভায় বিলটি আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়েছে, কীটনাশকের ব্যবহার, তার উৎপাদন, বিক্রি, রেজিস্ট্রেশন এবং রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ১৯৬৮ সালের চালু আইনে পরিবর্তন করতেই এই বিল।
 সিসিএফআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, কৃষকদের রোজগারে আঘাত হানতে পারে এই বিল। এর জন্য যে কমিটি তৈরি হয়েছে তারা জানিয়েছে, দেশের ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ শস্য পোকামাকড়, ইঁদুর, নানারকম রোগ ও আগাছার জন্য নষ্ট হয়। কীটনাশকের ব্যবহার জরুরি হলেও অন্য দেশের তুলনায় ভারতে এর ব্যবহার কম । প্রতি হেক্টরে যেখানে আমেরিকা ৭ কেজি, ইউরোপ ২.৫ কেজি, জাপান ১২ কেজি এবং কোরিয়া ৬.৬ কেজি কীটনাশক ব্যবহার করে সেখানে দেশে হেক্টর–পিছু এর ব্যবহার ০.৫ কেজি। 
সিসিএফআইয়ের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ড. অজিতকুমার বলেন, শস্যকে রক্ষা করার বিভিন্ন উপায়ের সময়মতো ব্যবহারের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দেশের কৃষকদের ভালমন্দ ও খাদ্য নিরাপত্তা। সম্প্রতি দেশের নানা জায়গায় পঙ্গপালের আক্রমণ ঘটে। যদি সময়মতো কীটনাশকের ব্যবহার না হত তবে ফসল ধ্বংস হয়ে কৃষকেরা বড় ধরনের বিপদে পড়তেন। পিএমবি ২০২০–তে এই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। 
ভারত কৃষক সমাজের সভাপতি ড. কৃষাণবীর সিং চৌধুরির অভিযোগ, ফসল উৎপাদনে কৃষকদের কম খরচের কথা কিছুই ভাবা হয় নি। ২০১৮ সালে গঠিত ড. অশোক দলাই কমিটির সুপারিশ ছিল কৃষিক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে। কিন্তু এই পিএমবি–র ফলে একদিকে যেমন বিদেশের ওপর নির্ভরতা বাড়বে তেমনি কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের রপ্তানিও ধাক্কা খাবে। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, দেশের উৎপাদন সংস্থাগুলির উন্নতি ঘটিয়ে তারা যাতে কীটনাশক রপ্তানি করতে পারে তা যেন দেখা হয়। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রাও আসবে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top